• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নভেম্বরে পাবনা-ঢালারচর রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

ছবি : সংগৃহীত

যোগাযোগ

নভেম্বরে পাবনা-ঢালারচর রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

  • মো. রেজাউর রহিম
  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৯

অবশেষে পাবনা জেলার পূর্বাঞ্চলের মানুষের রেলপথ ভ্রমণ ও পণ্য পরিবহনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বরে পাবনা শহর থেকে ঢালারচর রুটে ট্রেন চলাচল চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ রুটের ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া ঈশ্বরদী-পাকশী হয়ে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।  

সূত্র জানায়, পাবনা-ঢালারচর রেলপথের নির্মাণকাজের প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। রেল সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন গতকাল শুক্রবার পাবনা-ঢালারচর রুটের নির্মাণকাজ চূড়ান্তভাবে পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পাবনার জেলা প্রশাসক, পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা তার পরিদর্শন সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। সচিবের পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের অনুমোদন ও সময় প্রদানে সস্মতি দিলে আগামী নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কিছু ছোট-খাটো কাজ ছাড়া পাবনা-ঢালারচর রুটের রেলপথ নির্মাণকাজ প্রায় শতভাগ শেষ হওয়ার পথে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সস্মতি ও সময় প্রদান সাপেক্ষে আগামী নভেম্বরে এ রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে পাবনা জেলার পূর্বাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী রেলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত দেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেলওয়ের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সারা দেশকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া রেল সচিব আরো জানান, ঈশ্বরদী-পাকশী হয়ে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে।     

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রুটে রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার রেললাইন ও স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই রুটে নতুন রেলস্টেশনের সংখ্যা ১১টি, স্টেশনগুলো বি ও ডি ক্যাটাগরির। আর এ রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে সেতুর সংখ্যা ১১৩টি এবং  লেভেল ক্রসিং আছে প্রায় ৫০টি। প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয় ১ হাজার ১৪ দশমিক ২১ একর। ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই রেলপথের প্রথম পর্যায়ে পাবনা শহর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নির্মাণ কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ না হওয়ায় পাবনা শহর থেকে ঢালারচর পর্যন্ত অংশে এখনো চালু হয়নি ট্রেন। এ রুটে টেন চলাচল শুরুর মাধ্যমে পাবনা জেলার পূর্বাঞ্চলের (সাঁথিয়া-সুজানগর-বেড়া ও পাবনা সদরের আংশিক) মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হবে। 

উল্লেখ্য, ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হওয়ার পর থেকেই ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রেললাইনের রোডের দাবি ওঠে। ব্রিটিশরা ওই দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে ঈশ্বরদী-নগরবাড়ি রুটে রেল প্রকল্প হাতে নেয়। সে সময় পাবনায় নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ি ঘাট পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর এ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে এই রেললাইন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এই রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা-চিনাখড়া-কাশীনাথপুর হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads