• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads

যোগাযোগ

মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গণপরিবহনে ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ নিষিদ্ধ (ব্যান) করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গণপরিবহন কোম্পানিকে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগ দিতে বলেছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। দুই বাসের রেষারেষিতে রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হাসানের হাত হারানোর পর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় দুই বাসের রেষারেষিতে হাতকাটা পড়ে কলেজছাত্র রাজীবের। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৪ এপ্রিল রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। হাইকোর্ট এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল জারিসহ রাজীবের চিকিৎসার খরচ দিতে দুই বাস মালিক বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে নির্দেশ দেন। এ রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত বছরের ১৬ এপ্রিল রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বাসমালিকদের আপিলের পর গত বছরের ২২ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ ওই ঘটনায় দুই বাস কর্তৃপক্ষের মধ্যে কারা দায়ী ও ক্ষতিপূরণ নিরূপণ করতে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন। বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ওই বছরের ১৫ অক্টোবর দেওয়া প্রতিবেদনে গণপরিবহন নিয়ে কয়েকটি সুপারিশ দেয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক ও নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর হাইকোর্টে রুল শুনানি শেষে চলতি বছর ২০ জুন রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুই মাসের মধ্যে রাজীবের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও রায়ে অবিলম্বে ও ছয় মাসের মধ্যে কিছু দফা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। অবিলম্বে বাস্তবায়নের দফাগুলো হলো- চলন্ত অবস্থায় গণপরিবহনের (পাবলিক বাস) দরজা বন্ধ রাখতে হবে এবং শুধু নির্দিষ্ট স্টপেজে খুলতে পারবে। যেখানে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করা হয় সেখানে সব ধরনের গাড়ির চালকদের ডোপ টেস্ট করতে হবে। শব্দ দূষণরোধ নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য সব যানবাহন যেন হর্ন ব্যবহার করতে না পারে।  যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। 

ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া দফাগুলো সেগুলো হলো- অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে সব মহানগরে চলাচলকারী বিদ্যমান বাস কোম্পানিগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে এনে ইউনিক কালার কোডের মাধ্যমে জোন বা লাইনভিত্তিক বাস রুট ফ্যাঞ্চাইজ করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় সব ধরনের গাড়ির চালকদের দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট করার ব্যবস্থা করা, সব মহানগরের বেশিরভাগ পয়েন্টে বিশেষত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যেটা তদন্ত কার্যক্রম এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও অপারেটিং সিস্টেমে সহায়তা করবে। নির্মাণ করতে হবে যাত্রীছাউনি। এছাড়া বলা হয়, এ রায় পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে রাজীবের ছোট দুই ভাই মেহেদী হাসান বাপ্পী ও আবদুল্লাহ হূদয়কে ওই দুটি বাস কর্তৃপক্ষ ২৫ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে। 

রায়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান গতকাল রোববার বলেন, পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের কথা জেনেছি। পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads