• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

নাব্যতা সংকট

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

  • লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৪ অক্টোবর ২০১৯

পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ও মাদারীপুর শিবচরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকটের কারণে গতকাল রোববার দুপুুর ২টা থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি বলছে, বিআইডব্লিউটিএর গাফলতির কারণে নদীতে ড্রেজিং হচ্ছে না। এ জন্য ফেরি চলাচলও সচল করা যাচ্ছে না। তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, নদীতে তাদের খনন কাজ চলছে।

শিমুলিয়াঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে নাব্যতা সংকট ও স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছিল। এ কারণে প্রায় বন্ধ রাখতে হত অর্ধেকেরও বেশি ফেরি। গত রোববার সকাল থেকে নৌ-চ্যানেলে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে মূল নদীতে ছিল তীব্র স্রোত। ফলে ফেরি চ্যানেল মুখ দিয়ে ঢুকতে পারছিল না। দুপুর ২টা থেকে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় বন্ধ রাখা হয় ফেরি চলাচল। এর ফলে ঘাটে আটকা পড়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ পথের যাত্রী ও চালকদের।

হামীম পরিবহনের চালক আনু মোল্লা বলেন, সোমবার ভোরের রাজধানী থেকে যাত্রী বোঝাই করে ঘাটে আসি। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকি। ফেরি চলাচল শুরু না হওয়ায় যাত্রীরা অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে চলে যায়। তিনি বলেন, ঈদের পর থেকে যাত্রী চলে যাওয়ার ঘটনা তাঁর সাথেই ৪ বার হয়েছে।

প্রাইভেটকারের যাত্রী হৃদয় হাসান সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বলেন, তিনি রাজধানীর মতিঝিল থেকে যশোরে যাওয়ার জন্য সকাল ১০টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে আসেন। ফেরি বন্ধ থাকায় যানজটে আটকা পড়েছেন। সে সময় তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, কোরবানির ঈদের আগে থেকে নাব্যতা সংকটের কথা শুনছি। ঘাটে এসে প্রায় ফেরি বন্ধ পাচ্ছি। অথচ কর্তৃপক্ষ সংকট সমাধানে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ট্রাক চালক মো. নবাব আলী জানান, ঢাকার রূপসী থেকে তেল, আটা, সুজি নিয়ে এক সপ্তাহ আগে শিমুলিয়াঘাটে এসেছেন। যাবেন মাদারীপুর। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এখনো নদী পারের অপেক্ষায় আছেন। তবে কবে পার হতে পারবেন এ নিয়ে হতাশ হয়েছেন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ঘাটের অন্য গাড়িগুলো ফেরিতে পার হতে পারলেও ট্রাকগুলো আটকে আছে। যে কোনো উৎসব, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ট্রাক চালকদেরই বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শিমুলিয়াঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ঘাটে প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহি বাস, ছোট গাড়ি ও মালবাহী ট্রাক রয়েছে। তবে ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, একসপ্তাহ ধরে ঘাটে আটকে আছে এমন অনেক ট্রাক আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো. আলীমুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, একটি ফেরি চলতে কমপক্ষে ৭ ফুট পানি দরকার। সেখানে পানি আছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট।

তিনি বলেন, ‘লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় গত কোরবানি ঈদের আগে ওই চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায়। লৌহজংয়ের সোজা চ্যানেল দিয়েই চলছিল ফেরি। নাব্যতা-সংকটের জন্য প্রায় প্রতিদিনই ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। রোববার সকাল থেকে ফেরি চালাতে গেলেই মাটির সাথে আটকে যাচ্ছিল। তাই ওই দিন দুপুর থেকে জান-মালের নিরাপত্তা জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি ছোট ফেরি শুধু লাশ পরিবহনের জন্য মাঝে মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, চ্যানেল মুখে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ খননযন্ত্র বসিয়েছে। গত একমাস ধরে আমাদেরকে জানানো হচ্ছে। খুুব শীঘ্রুই তাদের খনন কাজ সম্পূর্ণ হবে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ কার্যত কোন পদক্ষেপই নেয়নি। তাদের গাফলতির কারণে এ পথের যাত্রীদের প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এনামুল হক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিকল্প চ্যানেলটি সচল করার জন্য দীর্ঘদিন খনন করেছি। নদীতে পলির মাত্রা বেশি হওয়ায় তেমন কাজে আসেনি। তাই সোজা চ্যানেলটি আবারও খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫টি খনন যন্ত্র বসানো হয়েছে। তিনশ ফুট পরিমান কাটা হলে আশা করি ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads