• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
সংস্কার না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ভোগ

মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের মানিকমুড়া থেকে বিনয়ঘর পর্যন্ত যেন মরণফাঁদ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের বেহাল দশা

সংস্কার না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ভোগ

  • কুদরত উল্যাহ, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)
  • প্রকাশিত ১২ নভেম্বর ২০১৯

কুমিল্লার  মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বিনয়ঘর থেকে মানিকমুড়া পর্যন্ত  বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুনঃনির্মাণ কাজের টেন্ডার হলেও এ অংশের কাজ শুরু না হওয়ায় দূর্ভোগ কমছে না এলাকাবাসীর।

জানা যায়, নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পশ্চিম, জোড্ডা পূর্ব, আদ্রা দক্ষিণ, দৌলখাঁড় ও বটতলি ইউনিয়ন এবং মনোহরগঞ্জের হাসনাবাদ, বাইশগাঁও, লক্ষণপুর, সরসপুর ও নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কে প্রতিদিন যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, মোটরসাইকেল, রিক্সা, বাইসাইকেল এবং মালামাল বহনকারী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটের সীমান্ত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সড়ক দিয়ে নাথেরপেটুয়া রেলওয়ে সুপার মার্কেট হয়ে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করে।

সূত্রে জানা যায়, মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে নাথেরপেটুয়া থেকে বিনয়ঘর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের অধীনে পুনঃনির্মাণ করা হবে। হাসনাবাদ থেকে মানিকমুড়া পর্যন্ত অবশিষ্ট সাড়ে ১৫ কিলোমিটার এলজিইডির অধীনে টেন্ডার হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ কাজটি পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে। সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট ফাঁকা থাকলেও নতুন টেন্ডারে তা ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। সড়কের আওতাধীন নাথেরপেটুয়া ও লক্ষণপুর বাজার ৮সিসি ঢালাই করা হবে। পুকুর ও বেড়ি এলাকায় প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করা হবে। সড়কে থাকা বেশ কয়েকটি কালভার্ট ৪০ ফুট প্রশস্ত করা হবে। ৪ মাসের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। প্যাকেজ আকারে হাসনাবাদ থেকে সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ চলছে। তবে সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনয়ঘর থেকে মানিকমুড়া পর্যন্ত সড়কের পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষের দূর্ভোগ দিনদিন বেড়েই চলেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ অংশের কাজ দ্রুত শুরু করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। 

নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বাংলাদেশের খবরকে জানান, সড়কের মানিকমুড়া থেকে বিনয়ঘর অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকার মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ অংশের কাজ শুরু করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান রিপন বলেন, মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের টেন্ডার পাওয়ার পরপরই গত ২০ অক্টোবর থেকে সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃনির্মাণ করার চেষ্টা করবো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সর্দারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মানিকমুড়া-নাথেরপেটুয়া-হাসনাবাদ সড়কের টেন্ডার হয়েছে। ইতোমধ্যে পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নতুন টেন্ডারে সড়কটি আরো আধুনিকায়ন করা হবে। বিনয়ঘর থেকে মানিকমুড়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads