• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭
সড়ক নয় যেন চাষের জমি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

সড়ক নয় যেন চাষের জমি

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেখে মনে হবে এটি কোন সড়ক নয়,যেন চাষের জমি। কোথাও কুয়ার মতো গর্ত,আবার কোথাও পিচ খোয়া উঠে স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে । সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কটি যেন হাল চাষের জমিতে পরিণত হয়। যা নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। সড়কে গাড়ি তো দূরের কথা,কোনো মানুষই যাতায়াত করতে পারে না। এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক হল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের হরষপুর-মির্জাপুর সড়ক।

বর্তমান সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে নিত্যদিন চলাচল করছে পণ্য ও যাত্রীবাহী অসংখ্য যানবাহন। সড়কের বেহাল দশা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। সেইসাথে ভাঙ্গাএ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি কি সড়ক নাকি চাষের জন্য প্রস্তুত করা কোনো জমি! তাই কাদা আর গর্ত দেখে অনেক যাত্রী এই সড়ককে ধানক্ষেত বলছেন।

বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর- মির্জাপুর- সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কটি দিয়ে আখাউড়া-বিজয়নগর ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের মাধবপুরের হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সড়কের মধ্যে পাইকপাড়া, বাগদিয়া আমতলী, চানপুর , খাটিংগা, নিদারাবাদ, সোনামোড়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পিচ ঢালাই সড়কের খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত সড়কে পানি জমে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানি জমে থাকে। কাদায় নিয়মিত আটকা পড়ছে ছোট বড় আকারের গাড়িগুলোও। সেই সাথে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা নিত্যদিন চলাচল করছে। সেইসাথে চলছে শত শত সিএনজি অটো রিকসা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। সড়কের বড় বড় গর্তে মালবাহী গাড়ির চাকা আটকে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। ভোগান্তিতে পড়ছেন পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। দীর্ঘদিন এ সড়কটি সংস্কার না করায় বর্তমানে বেহাল দশা এবং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়ে আছে ।
মির্জাপুরের ব্যবসায়ী মো. আজগর আলী বলেন, এই সড়কটি মূলত ৩ উপজেলার একটি বিকল্প সংযোগ সড়ক। সড়কটির দুরাবস্থার কারণে আধ ঘন্টার দূরত্বের পথ ১ ঘণ্টার উপর লাগছে । তাছাড়া ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে যাত্রীরা চলাচল করতে গিয়ে গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

মো: আলী আজগর বলেন, হরষপুর- মির্জাপুর সড়কটি বর্তমানে খানাখান্দে হয়ে আছে। দুরবস্থার কারণে পায়ে হেটে চলাচল করাই খুবই কষ্টকর । এই সড়ক সংস্কারে কারও যেন মাথা ব্যাথা নেই।

সিএনজি অটোরিক্সা চালক মো. সিরাজ মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাতে খুবই ভয় করে। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে যাত্রীকে ৫/৬ বার উঠানামা করতে হয়। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে পড়ছে। তা আবার মেরামত করতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।

সিএনজি চালক লিমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ সড়কের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে শরীর ব্যথা ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। প্রায় সময়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। তখন গাড়ি থেকে যাত্রীকে নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। একদিন গাড়ি চালালে পরদিন আর চালাতে ইচ্ছা করে না।

পাচগাও গ্রামের মো. মহসিন জানান, বর্তমানে ওই সড়কে অসংখ্য খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের রাত-বিরাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়ে।

খোরশেদ আলম বলেন দিন যতই যাচ্ছে সড়কের বেহাল অবস্থাও বাড়ছে। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। চলাচল করতে খুবই ভয় করে।

কলেজ ছাত্র মো. সাব্বির হোসেন বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কলেজ বন্ধ আছে। কলেজ খোলা থাকার সময় প্রতিদিন বিজয়নগরের নিদারাবাদ থেকে কলেজে আসা হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা থাকায় যাতায়তে খুবই কষ্ট হয়।

হরষপুর ইউপি চেয়ারম্যান সারোয়ার রহমান ভূইয়া সড়কটির ভয়াবহ অবস্থা স্বীকার করে বলেন,সড়কটি সংস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদ সমম্বয় সভায় একাধিক বার কথা বলেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এই জরার্জীর্ণ সড়কে প্রতিদিনই ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এসড়কটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষামান রয়েছে। আর বর্তমানে সড়কটির বড় বড় গর্তগুলো মেরামতে জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads