• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৬
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র অতিক্রম করতে হচ্ছে সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র অতিক্রম করতে হচ্ছে সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের

  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মো. নুরউদ্দীন খান সাগর, চট্টগ্রাম

চলতি বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন সন্দ্বীপের পাঁচ লাখ মানুষ। ভোগান্তি যেন তাদের পিছু ছাড়ছেই না।

অনুন্নত এবং ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক প্রকার দুর্বিষহ করে তুলেছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা। চরম ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ভয়ংকর সন্দ্বীপ চ্যানেল অতিক্রম করতে হচ্ছে এ দ্বীপের বাসিন্দাদের। ঘাট থেকে জেটিতে পৌঁছাতে হাঁটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল।

স্থানীয় বাসিন্দা আফসার বলেন,  সারা বছরই কষ্ট হয়, তবে বর্ষাকালে বেশি কষ্ট। তখন পানিতে নেমে চলাচল করতে হয়। খুব ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা।

আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্ষাকালে সাগরে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে।

স্থানীয়রা আরো জানান, এ বিষয়টি সন্দ্বীপের সংসদ সদস্যের কাছে উপস্থাপন করার পর এখন সুরহার চেষ্টা চলছে। যদি এই নৌপথ নিরাপদ করা যায় তাহলে সন্দ্বীপ হবে অন্যতম এক পর্যটন নগরী।

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের কুমিরাহয়ে জেটি পেরিয়ে উঠতে হবে সন্দ্বীপগামী যে কোনো স্পিড বোটে। কোনো রকমে ১৮ কিলোমিটার সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছার পর সন্দ্বীপ অংশের জেটি থেকে নেমে কমপক্ষে এক কিলোমিটার হাঁটতে হবে কাদামাটি অথবা বিশেষ জেটিতে। আবার নৌযানে উঠার সময়ও একই অবস্থা। শুধু তাই নয় স্টিমার কিংবা লঞ্চে উঠতে নামতে হলে অবৈধ লালবোট ব্যবহার করতে হয়। যার কারণে ২০১৭ সালে ২ এপ্রিল হারাতে হয়েছে ১৮টি তাজা প্রাণ। এভাবেই বছরের পর বছর চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করছে সন্দ্বীপের ৫ লাখের বেশি মানুষ।

এখানেই শেষ নয়। বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তাল থাকায় কখন বোট ছাড়বে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অনেকটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে চলতে হয় এখানকার মানুষদের। আর অন্য মৌসুমে সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে চলে স্পিডবোট। এরপর যতোই প্রয়োজনীয় কাজ হোক কোনো পথ নেই।

এক সময় বিআইডব্লিউটিসির মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ রুটে তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করত। এখন সবগুলো জাহাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলা মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিড বোটগুলো এখানকার মানুষের ভরসা। এই রুটে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে কিন্তু যাতায়াতের জন্য এখানে ভালো কোনো স্থায়ী নৌযান নেই। যার কারণে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয় কখনো অবৈধ স্পিডবোট, কখন লঞ্চ, আবার কখনো স্টিমারে। এই নৌপথে যেন অনিয়মের শেষ নেই। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের চাওয়া সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম আসার জন্য একটি উন্নত এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads