• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
বৈরী আবহাওয়ায় সব ধরনের নৌযান বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি

বৈরী আবহাওয়ায় সব ধরনের নৌযান বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

  • লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর ২০২০

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ি নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুুর্ঘটনা এড়াতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল নৌচলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে করে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে আছে শতশত যাত্রী।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউ উঠতে থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এ নৌপথকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকতের আওতায় নিয়ে আসে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এই নৌপথের ৮২টি লঞ্চ ও ৪ শতাধিক স্পিডবোট বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে খোজ নিয়ে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী শিমুলিয়া ঘাট পারাপারের অপেক্ষায় আছেন। লঞ্চ টর্মিনালের সংযোগ সড়কে অসংখ্য মানুষের ভীড়। যাত্রী ছাউনি মেঝেতে কেউ শুয়ে-বসে, কেউ াঁড়িয়ে আবার কেউবা পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ আবার লাগেজের উপর বসে লঞ্চ ও সিবোট ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। এরে মধ্যে কুড়িগ্রাম ও জামালপুর থেকে আসা শতাধিকের উপরে দিনমজুরও ছিলেন। বৃষ্টির বেগ থাকায় ছাউনিতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা অনেকে লঞ্চের মধ্যেও আশ্রয় নিচ্ছিলেন।

এদের মধ্যে নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খুব বেশি ভোগান্তিতে ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে অনেকে ঘাট ছেড়ে চলে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী অপেক্ষায় বসে ছিলেন। গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রুহুল আমিন নামে এক যাত্রী জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় শিমুলিয়া ঘাটে এসে সে জানতে পারেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে সিবোট ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ। পরে শুক্রবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। ভোগান্তি বেড়ে চলেছে।

সৈয়দ আশরাফুল আলম নামে গোপালগঞ্জ শহরের এক যাত্রী বলেন, ভেবেছিলাম দুইটি ছোট বাচ্চা ও স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাবো। এ উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে ঘাটে আসি। বৃষ্টির মধ্যে লঞ্চঘাটে খুব কষ্ট করেছি। আর পরছিনা। বিকেল হলো। আজকেও লঞ্চ ও স্পিডবোট চলবেনা। তাই রাজধানীর ঢাকার বাসায় ফিরে যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহদাত হোসেন শুক্রবার বিকেলে জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় দুুই পারের কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে আছে। বিকেল নাগাত নৌচলাচলের সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরো বলেন, যদিও ২নম্বর সতর্কতা সংকতের জন্য ৬৫ ফুটের নিচে নৌযান বন্ধ রাখতে হয়। এখানে যে লঞ্চগুলো আছে প্রতিটি ৬৫ ফুটের ওপরে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতে ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চ চলাচল করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও নৌযানগুলো চলবে।

এদিকে নাব্যতা সংকটের জন্য টানা ৮ দিন ধরে চলছেনা কোন ফেরি। ঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র স্রোত ও নাব্যতা –সংকটে তিন মাস ধরে এ নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই আগস্ট মাসে মাঝে মধ্যেই রাতে বন্ধ রেখে দিনে ফেরি চালানো হতো। প্রতিদিন মাত্র ৪-৫টি ছোট ফেরি চলাচল করত। সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচ দফায় ১৭ দিন ফেরি বন্ধ ছিল। চলতি মাসের তিন দফায় ১০ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ। ১৫ অক্টোবর সকালে ছোট ৪-৫টি ফেরি চলছিল। সেদিন দুপুরের দিকে আবারও নাব্যতা –সংকট দেখা দেয়। ফলে সেদিন বিকেল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ফেরি বন্ধ রয়েছে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বৈরী আবহাওয়া অনুকূলে আসলে লঞ্চ ও স্পিবোট চলবে। ফেরি চলাচল সহজেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর পর থেকে নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে ডুবোচর জেগেছে। চায়না চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন চ্যানেল খনন হচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন জানান, ঘাট একেবারেই নীরব। যানবাহন, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, হকারদের ডাকাডাকি ও কাজ কোনোটাই নেই। অলস সময় পার করতে হচ্ছে। নতুন করেও কোনো গাড়িও আসছে না। যাত্রীরা লঞ্চ ও স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা–ও বন্ধ। যারা ঘাটে এসে আটকা পড়েছেন, তাঁরা চরম ভোগান্তিতে আছেন।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, লৌহজং বিকল্প চ্যানেলের পাশ দিয়ে নতুন একটি চ্যানেল খনন চলছে। চ্যানেলটি পদ্মা সেতুর ৩৮ নম্বর খুঁটির পাশ দিয়ে হচ্ছে। এটি মাঝিরকান্দি হয়ে যাবে। বিআইডব্লিউটিএর লোকজন খনন শেষ করলে ফেরি চালানো হবে। তবে কবে নাগাদ শুরু হবে, সেটা নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads