• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

যোগাযোগ

ইউটার্নও কমাতে পারেনি রাজধানীর যানজট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০২১

রাজধানীর যানজট নিরসনে কয়েকটি ইউটার্ন চালু করা হয়েছে। কিন্তু তাতে যানজট আরো বেড়েছে। বেড়েছে যাতায়াতের সময়ও। সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি যানজটে পড়তে হয় সকালে অফিস যাওয়ায় সময় এবং বিকেলে। এখন তো বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ তাতেই এই অবস্থা, সব স্কুল খুলে দিলে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর তেজগাঁও বিজি প্রেসের সামনে, নাবিস্কো মোড় এবং বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় তিনটি ইউটার্ন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ইউটার্ন চালু হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই রোডের যানজট আগের চেয়ে বেড়েছে।

বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার ইউটার্নে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মগেট থেকে মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে এই ইউটার্ন পার হতে ছোট-বড় যানবাহনগুলোর যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ। এছাড়া তেজগাঁও থেকে বিমানবন্দরমুখী গাড়িগুলোকেও মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিগন্যালের জন্য। একইভাবে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর হয়ে আসা গাড়িগুলোর অবস্থাও একই। টঙ্গী থেকে গুলিস্তানের দিকে চলাচলকারী স্কাই লাইন পরিবহনের গাড়িচালক হুমায়ুন আলী বলেন, ইউটার্নের ফলে সড়ক আগের চেয়ে সরু হয়ে এসেছে। ফলে গাড়িও চলছে ধীরগতিতে। আবার ক্রসিংগুলোও খোলা রয়েছে। আগের মতোই সিগন্যালের জ্যামে পড়তে হচ্ছে। ফলে আমাদের ট্রিপের সংখ্যা কমে গেছে। তা ছাড়া গাড়িগুলো বেশিক্ষণ জ্যামে আটকে থাকার ফলে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। এতে লসে পড়তে হচ্ছে তাদের।

আব্দুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেনে চলাচল করা ভূঁইয়া প্রাইভেট লিমিটেডের গাড়িচালক লোকমান হোসেন বলেন, ইউটার্ন হওয়ার ফলে কিছুটা সুবিধা হয়েছে, তবে রাস্তাও কিছুটা সরু হয়ে গেছে। যার ফলে বেড়েছে গাড়ির চাপ। তাই উত্তরা এয়ারপোর্টগামী গাড়ির অপেক্ষা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। তা ছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউলুপ না থাকায় এখানেও যানজটে বসে থাকতে হয় আগের মতন।

বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ইউটার্ন নিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না ট্রাফিক সিগন্যালের। ছোট-বড় বাসও অনায়াসেই বাঁক নিচ্ছে। তবে উভয় পাশের গাড়ির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের।

যানজটে বিরক্তির ছাপ লক্ষ করা গেছে এই রুটের যাত্রীদের। বেসরকারি চাকরিজীবী তুহিন হালদার বলেন, স্বস্তির বদলে অস্বস্তি এনে দিয়েছে এই ইউটার্ন। একটু পরপরই সিগন্যালে পড়তে হচ্ছে গাড়িগুলোকে, একইসাথে যাতায়াতের সময়ও বেশি লাগছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির ইউটার্ন প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সব ইউটার্ন চালু না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাকি সব ইউটার্নের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব। এর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারপর হয়তো নগরবাসী এসব ইউটার্নের সুফল পুরোপুরি পাবেন।

উল্লেখ্য, ডিএনসিসির ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ৬টি চালু করা হয়েছে। এর আগে কাওলা, উত্তরা র্যাব-১ কার্যালয়ের সামনে এবং উত্তরা জসীমউদ্দীন মোড়ের ইউটার্ন খুলে দেওয়া হয়। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরে সংশোধনে তা বেড়ে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads