• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads

সংরক্ষিত ছবি

অপরাধ

খাগড়াছড়িতে তপন জ্যোতিসহ ৫ জনকে হত্যা

কিলিং মিশনে অংশ নেয় দুই গ্রুপ

  • রাঙামাটি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৯ মে ২০১৮

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সহসভাপতি শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পাঁচজনকে হত্যায় অংশ নেয় দুটি গ্রুপ। এক গ্রুপ ব্যর্থ হলে অপর গ্রুপ যেন মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারে এ জন্যই ছিল এই পরিকল্পনা।

গত শুক্রবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে নানিয়ারচর-মহালছড়ি সীমান্তের কেংড়াছড়ি এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক কর্মী ঝিমিত চাকমার বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মোট ১৩টি মাইক্রোবাসযোগে শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। পথিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সশস্ত্র দুটি গ্রুপ ওঁৎ পেতে থাকে। একটি গ্রুপ রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের বেতছড়ি এলাকার ছোট্ট একটি টিলার ওপর অবস্থান নেয়। অপর গ্রুপটি সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বিভক্ত অংশ ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা ছিল তাদের মূল টার্গেট।

প্রথমে তপন জ্যোতি ও তার সঙ্গীদের বহন করা মাইক্রোবাসচালক সজীব হাওলাদারকে গুলি করা হয়। তখন গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের টিলায় ধাক্কা খায়। এরপর খুব কাছ থেকে লক্ষ করে গুলি চালিয়ে তপন জ্যোতির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। তপন জ্যোতি চাকমার মাথার পেছনের অংশে গুলি লেগে মগজ বেরিয়ে আসে। অন্যদের মধ্যে একজনের কানের পাশে গুলি লাগে এবং অন্যজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে টিলার ওপর একটি বাঁশের বেড়া ও টিনের তৈরি পরিত্যক্ত ঘর ছিল। ওই ঘরের আঙিনা থেকে প্রথমে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তপন জ্যোতির মৃত্যু নিশ্চিতের পর পালিয়ে যায় ঘাতক দুটি গ্রুপ।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নয়নময় ত্রিপুরা জানান, নিহতদের প্রত্যেকের মাথায় গুলির চিহ্ন আছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের মাথায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।

বিরোধের শুরু যেখানে : পার্বত্য রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ‘বর্মা’ নামে পরিচিত তপন ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়িদের সংগঠন ইউপিডিএফের সশস্ত্র শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। গত দুই দশক ওই এলাকায় ইউপিডিএফের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের পেছনে ভূমিকা ছিল তার।

২০১৭ সালের শুরুতে টানাপড়েন তৈরি হয় ইউপিডিএফ নেতৃত্বের। ওই টানাপড়েনের কারণে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার হাত ধরে ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকা জনসংহতি সমিতিতে (এমএন লারমা) যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তপন ও তার কিছু অনুসারী। কিন্তু ওই বছরই পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে একটি অদৃশ্য ‘সমন্বয় ও সমঝোতা’ হলে আর তাকে নিতে পারেনি জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এসে খাগড়াছড়ি শহরে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে পৃথক দলের ঘোষণা দেন তপন। সঙ্গে থাকেন এক সময় সশস্ত্র সহযোদ্ধা হিসেবে থাকা অন্তত শ’খানেক নেতাকর্মী।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর গত তিন মাসে অন্তত পাঁচ ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মিঠুন চাকমার মতো ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা। অভিযোগ রয়েছে, গত মার্চ মাসে ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন হিল উইমেনস ফেডারেশনের দুই শীর্ষ নেত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক।

ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীদের দাবি, প্রায় ৩২ দিন পর ওই দুই নেত্রী মুক্তি পেলেও ওই ঘটনায় শক্তিমান ও তপনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় ইউপিডিএফ। এ কারণেই তারা ইউপিডিএফের মূল টার্গেটে পরিণত হন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads