• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
কাউন্সিলর একরামুলের নিহতের ঘটনার তদন্ত দাবি পরিবারের

স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে একরামুল হক

সংরক্ষিত ছবি

অপরাধ

কাউন্সিলর একরামুলের নিহতের ঘটনার তদন্ত দাবি পরিবারের

সরব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।  তাদের ধারণা র‌্যাবের র‌্যাব ভুল তথ্য পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাই তদন্ত হওয়া দরকার। 

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শনিবার রাতে  নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং একই স্থানীয় ওয়ার্ডের পর পর তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও ছিলেন একরামুল। তিনি দীর্ঘ দিন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও একসময় তিনি টেকনাফ হাইএস মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়কও ছিলেন।

বন্দুকযুদ্ধে একরামুল নিহত হওয়ার পর র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার বাবার নাম আবদুস সাত্তারের জায়গায় লেখা হয় মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার। আর ঠিকানার জায়গায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার বদলে লেখা হয় নাজিরপাড়ায়।

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়, একরামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

একরামুলের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে সাধারণ পোশাকের কিছু লোক শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায়, জমি বিক্রির ব্যাপারে একরামুলের সঙ্গে কথা বলতে চায় তারা। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুলের নিহত হওয়ার খবর পান তিনি।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাবার নামে অসঙ্গতির বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বাবার অন্য কোনো নাম নেই। আর টেকনাফ পৌরসভায় নাজিরপাড়া নামে কোনো এলাকাও নেই। নাজির পাড়া এলাকাটি টেকনাফ সদর ইউনিয়নে।

এহসানুল বলেন, ‘টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা মোজাহার মিয়ার কয়েকজন ছেলে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও তথ্য রয়েছে।’ র‌্যাব ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একরামুলকে ধরে নিয়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তার ভাই।

একরামের স্ত্রী আয়েশা খাতুনও দাবি করেন, তার স্বামী কোনো সময়ই ইয়াবার কারবারে জড়িত ছিলেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়া জানান, পৌর কাউন্সিলর একরামুলের বিরুদ্ধে এক সময় টেকনাফ থানায় দুটি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মারামারির ঘটনায় এবং অন্যটি মাদক আইনে। মারামারির ঘটনার মামলাটি ইতোমধ্যে আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আর মাদকের মামলাটিতে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

তবে পরিবারের সন্দেহ, বাবার নাম ও ঠিকানায় অসঙ্গতি এবং মামলার তথ্য নিয়ে কক্সবাজার র‌্যাবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি এখনো।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুলের নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্থানীয়রাও ফেসবুকে সরব হয়েছেন। 

এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী মাবু ফেসবুকে প্রধানন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি লিখে একরামুল নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads