• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সাহিত্যিক ওয়ালীউল্লাহর জমি আত্মসাতের অভিযোগ

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

পুরোনো ছবি

অপরাধ

সাহিত্যিক ওয়ালীউল্লাহর জমি আত্মসাতের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ জুন ২০১৮

রাজধানীর গুলশানে কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি কে জেড ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। জাল দলিলের মাধ্যমে জমি আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন তার ছেলে ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ।

মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার অভিযোগ শুনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী দীপঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ তার বাবার মামাতো ভাই কামাল জিয়াউল ইসলাম (কে জেড ইসলাম), তার স্ত্রী খাদিজা ইসলাম ও ছেলে রায়হান কামালের বিরুদ্ধে করা এই ফৌজদারি মামলায় ‘অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, সম্পত্তি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির’ অভিযোগ এনেছেন।

আর্জিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্যারিসে চাকরিতে থাকাকালে ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর মারা যান সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তখন গুলশানে তার ১ বিঘা ২ কাঠা জমির প্লট এবং ভবনের মালিকানা তার ফরাসি স্ত্রী আন-মারি লুই রোজিতা মার্সেল (নাসরীন ওয়ালীউল্লাহ) এবং তাদের দুই সন্তান ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ ও সিমিন ওয়ালীউল্লাহর নামে নামজারি করা হয়।

প্যারিসে অবস্থানরত ইরাজ ও তার মা-বোন ওই বাড়ি দেখাশোনার জন্য ১৯৮১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ালীউল্লাহর মামাতো ভাই কামাল জিয়াউল ইসলামকে আমমোক্তারনামা দিয়েছিলেন। সেখানে মালিকের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কথা থাকলেও কামাল জিয়াউল ইসলাম তার স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ওই ভবন ও জমির মালিক সেজে তা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘নির্মাণ বিল্ডার্স’ সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

‘লাল সালু’, ‘কাঁদো নদী কাঁদো’র মতো উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৫১ ও ’৬০-এর দশকে পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত প্যারিসে পাকিস্তান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। ওই বছর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালান।

এদিকে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল জিয়াউল ইসলাম এক সময় বিসিবির সভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা ইসলাম নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান। তাদের ছেলে রায়হান কামাল ও রাহাত কামালও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।

১৯৬২ সালের ১১ এপ্রিল জনৈক মোহাম্মাদ আশরাফ আলী গুলশান আবাসিক মডেল টাউনের ৯৬নং রোডের সিইএন (বি) ব্লকের ১০নং প্লটের ২২ কাঠা সম্পত্তি তৎকালীন ডিআইটির (বর্তমান রাজউক) কাছ থেকে লিজ নেন। যা ডিআইটির অনুমতি নিয়ে ১৯৭০ সালের ১২ মার্চ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নামে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads