• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানার মেয়ে ডা. ফাতিমা আকতার পুষ্প।

ছবি বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের দাবি

‘আমার বাবাই মায়ের খুনি’

  • চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ জুন ২০১৮

আমার বাবাই আমার মাকে খুন করেছে বলে দাবি করেছেন নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানার মেয়ে ও খুনের দায়ে কারাগারে আটক চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলামের মেয়ে ডা. ফাতিমা আকতার।

রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবী করেন। ফেন্সি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট মেয়ে ডা. ফাহিমা শাহীন পুষ্প বলেন, মানুষ যখন চরম বিপদের সম্মুখীন হয় এবং যে কোনো বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে শঙ্কাবোধ করে তখনই ওই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলো মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়। তেমনি আমরাও আজ মা হারা সন্তানগুলো আপনাদের দ্বারস্ত হয়েছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. ফাতিমা বলেন, গত ৪ জুন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে আমার মা অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি তার নিজ বাসায় আমার পিতা অ্যাড. জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমের সহযোগিতায় নির্মমভাবে খুন হন। আমার মা জীবদ্দশায় ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তিনি চাঁদপুর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা অ্যাড. জহিরুল ইসলাম অনুমানিক চার বছর আগে জুলেখা বেগম নামে এক বিবাহিতা এবং স্বামী পরিত্যক্ত দুই সন্তানের জননী এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে সবার অগোচরে ওই মহিলাকে বিয়ে করেন। আমার বাবার এই অনৈতিক সম্পর্ক ও পরবর্তীতে বিয়ে করা- বিষয়টি আমার বোনেরা এবং আমার মা কখনোই মেনে নেয়নি। যা নিয়ে আমার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো এবং আমার বাবা আমার মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আমার বাবা প্রকাশ্যেই আমার মাকে জীবননাশের হুমকি দিতো এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীও মোবাইলে আমার মাকে হত্যার হুমকি দিতো। যা আমার বোনেরা শুনেছি এবং দেখেছি।

ডা ফাতিমা বলেন, গত ৪ জুন সন্ধ্যায় আমার বাবা পূর্ব পরিকল্পনা করে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় আমার মাকে খুন করে। খুনের পরে আলামত নষ্ট করে এই খুনকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। খুনের ঘটনার আলামত নষ্ট এবং আগে-পরের নানা ঘটনাই প্রমাণ করে আমার বাবা অ্যাড. জহিরুল ইসলামী আমার মায়ের খুনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, নিহত অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানার বড় ভাই মো. নঈমুদ্দিন খান, মো. নাছির উদ্দিন খান, ছোট ভাই মো. ফোরকান উদ্দিন খান, বড় জামাতা আরিফুর খান, বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্মা, ছোট মেয়ে ফাতেমা শাহীন পুষ্প, চাচাতো ভাই মানিক খান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বেবি, বড় ভাইয়ের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার, বড় ভাইয়ের ছেলে ইফতেখার আহমেদ, বড় ভাইয়ের মেয়ে রোবেনা সুলতানা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads