• বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
স্বামীই হত্যা করে রুবিনাকে

রুবিনার হত্যাকারী স্বামী মো. লিটন

সংগ্রহীত ছবি

অপরাধ

পারিবারিক কলহের জের

স্বামীই হত্যা করে রুবিনাকে

  • কমলনগর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি :
  • প্রকাশিত ১০ জুলাই ২০১৮

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা এলাকার গৃহবধূ রুবিনা আক্তার (১৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। খুন হওয়ার তিন মাস পর সোমবার পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহজনকভাবে নিহতের স্বামী লিটনকে আটকের মাধ্যমে এ খুনের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে। পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী লিটন তাকে হত্যা করে লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে সোমবার আদালতে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন লিটন।

পুলিশ জানান, জানুয়ারি মাসে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার এলাকার মৃত মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে মো. লিটনের (২৫) সঙ্গে একই এলাকার চৌধুরী মাঝির মেয়ে রুবিনা আক্তারের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর ১৩ এপ্রিল চৌধুরী মাঝির বাড়ির বাগান থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুবিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লিটনের পরিবার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেও অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই দিনই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। কিন্তু ৮ জুলাই পাওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্টে রুবিনার মৃত্যু আঘাতজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ ওই দিন রাতেই নিহতের স্বামী লিটনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

থানা হাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রুবিনাকে সে নিজ হাতে খুন করে। পরদিন লক্ষ্মীপুর আদালতে এ হত্যাকা-ের বিষয়ে সে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিও দেয়।

জবানবন্দিতে লিটন উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে স্ত্রী রুবিনার সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া হলে রুবিনা বাবার বাড়িতে চলে যায়। ঘটনার দিন রাতে লিটন শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কৌশলে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে বাগানে নিয়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রুবিনাকে হত্যা করে লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

কমলনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, সোমবারই লিটনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads