• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
১৩ বছর ধরেই খনি থেকে চুরি হয়েছে কয়লা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরেই বড়পুকুরিয়ার খনি থেকে চুরি হয়েছে কয়লা

ছবি: সংগৃহীত

অপরাধ

১৩ বছর ধরেই খনি থেকে চুরি হয়েছে কয়লা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৮

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরেই খনি থেকে চুরি হয়েছে কয়লা। আর এ লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই করা হয় যন্ত্রপাতি নষ্টের পরিকল্পনা। আর তা বাস্তবায়নের সময়ই সব কিছু ধরা পড়ে যায়। কারণ চীনা কোম্পানিকে ফি দেওয়ার কারণে পেট্রোবাংলাকে কড়ায় গণ্ডায় হিসাব রাখতে হতো। এর ফলে উৎপাদন নিয়ে হেরফের করার সুযোগ হয়নি। এ ছাড়া পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খনি থেকে অপ্রত্যাশিত আবর্জনা কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে পাথরের সঙ্গে পাঠানো হতো। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারাও সেখান থেকে পাথর ও আবর্জনা বাছাই করে প্রকল্প এলাকায় জমা করে রাখেন। এ কারণে চুরির পরিমাণও সহজেই পাওয়া গেছে। এখন মামলা দায়েরের পর এ নিয়ে তদন্ত করতে দুদকের তদন্ত দল দিনাজপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এখন মামলায় অভিযুক্ত এবং অন্য সন্দেহভাজনদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ নিতে শুরু করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করতে খনির উৎপাদন কিছুদিন বন্ধ থাকবে এই খবর পাওয়ার পর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ তখনো আশ্বাস দিয়েছিল, যথেষ্ট মজুত তাদের রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি মতো কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় জুলাইতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়। তখনই কর্তৃপক্ষ টের পান কয়লার প্রয়োজনীয় মজুত আদৌ নেই।

জুলাইয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি যখন বের হয়, তখন দেখা যায় ২০০৫ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উৎপাদন এবং সরবরাহের হিসাবের মধ্যে বিস্তর ফারাক। কাগজে কলমে এই ফারাক ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন। অর্থাৎ ১৩ বছর ধরে খনি থেকে কয়লা চুরি হয়েছে। এ ছাড়া চীনা কোম্পানিকে কয়লা উত্তোলনের জন্য যেহেতু ফি দিতে হয়, সে জন্য উৎপাদনের হিসাবটি পেট্রোবাংলাকে কড়ায়-গণ্ডায় রাখতে হয়। সে কারণেই তদন্তে হিসাবের গরমিল সহজে ফাঁস হয়ে যায়।

পার্বতীপুর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ‘২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ লাখ ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা, যার আনুমানিক মূল্য ২৩০ কোটি টাকা, ঘাটতি বা চুরি হয়েছে বলে অনুমিত হয়েছে।’ অর্থাৎ গত ১৩ বছর যাবৎ এ চুরি চলেছে।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত দল দিনাজপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

খনি থেকে বিদ্যুৎ ইউনিটে যাওয়া কয়লা শতভাগ শুদ্ধ বা পরিশোধিত নয়। সঙ্গে থাকে ভূগর্ভস্থ আবর্জনা। কিন্তু কী পরিমাণ মিশ্রণ কয়লার সঙ্গে থাকতে পারবে, তার বাধ্যবাধকতা নেই। অভিযোগ আছে, এই সুযোগ নিয়ে খনি থেকে অপ্রত্যাশিত আবর্জনা কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ঠেলে দেওয়া হয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বিষয়টি আগেভাগে ধরে ফেলায় বিপুল পরিমাণ পাথর ও আবর্জনা বাছাই করে প্রকল্প এলাকায় জমা রাখা হয়।

এ নিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কী উদ্দেশ্যে আবর্জনা ও পাথর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছিল তা এখন পরিষ্কার। কিন্তু খনি এলাকা থেকে কত দিনে কোথায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে রহস্যের ভেদ হয়নি এখনো।

এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি খনির চার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) দায়ী করলেও আরো বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত থাকার আভাস দেওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুদকের তদন্তে সহায়তার জন্য অভিযুক্ত এবং সন্দেহভাজনদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ নিতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ নিয়ে তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads