• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
আট লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ : আটক ১

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কে লাল দাগ চিহিৃত করে বন বিভাগের গাছ কেটে নেয়ার প্রস্তুতি

ছবি -বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়ক

আট লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ : আটক ১

  • মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ
  • প্রকাশিত ১৪ আগস্ট ২০১৮

চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের বনবিভাগের আওতাধীন ৯০টি গাছ টেন্ডারের পুর্বেই কেটে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।গাছের মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বলে দাবি করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হাজীকে আটক করতে পারেন নি। 

এদিকে এর আগেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ-রায়পুর পুরানো জেলা পরিষদের সড়ক থেকে ২৩ টি মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বাদী ফরেস্টার কামরুল হাসান জানান, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের চতুরা এলাকার কামিনীপুল হতে বর্ডার বাজার পর্যন্ত ১৯৯৩-৯৪ সালে সাড়ে ৪ কিঃ মিঃ সড়কে বন বিভাগ গাছ লাগায়। সড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থে বন বিভাগ তাদের গাছ কাটার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। গাছগুলোর কাটার জন্য গত ৮ আগস্ট টেন্ডার হয়েছে। আমাদের গাছগুলো লাল মার্ক করা ছিল। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাছগুলো ছিল হলুদ মার্ক করা। কিন্তু টেন্ডারের পূর্বেই বন বিভাগের ৯০টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে অভিযুক্তরা। গাছগুলো কেটে নেয়ার খবর পেয়ে মিজান ও নাছিরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ জনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দিয়েছি।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি নাছির উদ্দীন হাজী বলেন, ‘চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের বাগাদী থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত ১৫শ’ ৮৪টি সরকারি গাছ কেটে নেয়ার জন্য আমি সওজের ঢাকার মিরপুরস্থ অফিস থেকে টেন্ডার পেয়েছি। মোট ৮টি ধাপে আমি ২৭ লাখ টাকা সরকারি খাতে জমা দিয়ে এই গাছগুলো কেটে নেয়ার কার্যাদেশ নেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাছ কেটেছি আমি, বন বিভাগের গাছ কোন টি সেটি আমি জানি না। তাছাড়া প্রকাশ্যে এই গাছ কাটা হয়েছে’। এসময় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন বলে জানান।

জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অপারেশন ডিভিশন (পূর্বাঞ্চল) ঢাকার মিরপুর সওজের নির্বাহী বৃক্ষ পালনবিদ কামাল উদ্দীন মোল্লা স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ দেয় গত ১ মার্চ। উক্ত কার্যাদেশ দেয়ার ২ দিনের মধ্যে সওজের গাছ কাটার জন্য নাছির উদ্দীন হাজী ও তার সহযোগী মিজানুর রহমানের নামে সরকারি চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু সরকারিভাবে দেয়া উক্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের পূর্ব পাশের বন বিভাগের গাছ কাটা শুরু হয় এ সংবাদ পেয়েই চলতি মাসের ৪ আগস্ট বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় গাছ কাটার সাথে জড়িত মিজানুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই সাথে সরকারি গাছ কাটার আলামত হিসেবে কয়েকটি গাছের টুকরো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

অপরদিকে উপজেলার ১৬নং দক্ষিণ রূপসা এলাকার গৃদকালিন্দিয়া বাজারের জেলা পরিষদের পুরানো রাস্তা থেকে ২৩টি সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইসকান্দার নাছির উদ্দীন হাজী ও সরকার দলীয় এক নেতার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক এই অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে ফরিদগঞ্জের ইউএনওর কাছে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, বেআইনীভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে নাছির ও মিজানের বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলা দিয়েছে। মিজান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads