• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ঢাকায় গ্রেফতার

মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রতীকী ছবি

অপরাধ

টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ঢাকায় গ্রেফতার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০১৮

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ছয় মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। এদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. জহির আহাম্মেদ ওরফে মৌলভী জহির (৬০) রয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র্যাব-২-এর মেজর মোহাম্মদ আলী জানান, আটক অন্যরা হলো— মো. ফয়সাল আহাম্মেদ (৩১), মো. মিরাজ উদ্দিন নিশান (২১), মো. তৌফিকুল ইসলাম ওরফে সানি (২১), সঞ্জয় চন্দ্র হালদার (২০) ও মো. মমিনুল আলম ওরফে মোমিন (৩০)। অভিযানে দুই লাখ সাত হাজার ১০০টি ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মেজর মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ছিল টেকনাফ ও কক্সবাজারের কিছু মাদক ব্যবসায়ী রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। তারা বিমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাতায়াত করে। আকাশপথের যাত্রীদের ওপর নজরদারির ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে ৩৫ হাজার ইয়াবাসহ ফয়সাল আহমেদ, মিরাজ উদ্দিন নিশান, তৌফিকুল ইসলাম সানি ও সঞ্জয় চন্দ্র হালদারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে ৬৭ হাজার ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ছয় লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেফতার করা হয় মূল হোতা জহির আহাম্মেদ ও মমিনুল আলমকে।

মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জহির ও মমিনুলের দেওয়া তথ্যে এলিফ্যান্ট রোডের অন্য একটি বাসা থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ১০০ ইয়ারা ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জহির আহাম্মেদ জানায়, সে ও তার ছেলে জহিরুল ইসলাম ওরফে বাবু পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। গত ২৫ এপ্রিল ধানমন্ডিতে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে বাবু এখন কারাগারে। এ ছাড়া তার স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের স্বামী আবদুল আমিনও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।

র্যাব সূত্র জানিয়েছে, জহির তার পুরো পরিবারসহ টেকনাফের কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ইয়াবা ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। পরিবহন সেক্টরের কয়েকজন চালক, হেলপার, দুটি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী ও ঢাকায় কয়েকজন খুচরা বিক্রেতাও রয়েছে এ সিন্ডিকেটে। জিজ্ঞাসাবাদে জহির জানায়, মিয়ানমারে তার প্রতিনিধি বর্মাইয়া আলম। মিয়ানমারের মংডু ও টেকনাফে আলমের বাড়িও রয়েছে। সে মংডু থেকে নদীপথে ইয়াবা এনে টেকনাফের নাজিরপাড়া ও জালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি জায়গায় মজুত করে। পরে বিভিন্ন পরিবহন ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আসা হতো।

জহির আরো জানায়, কৌশলে ইয়াবা লুকানোর বিষয়ে মোমিন ওস্তাদ। সে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ফ্যান, ওয়াশিং মেশিন ও এসির ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে ঢাকায় সরবরাহ করত। জহির মূলত ঢাকায় পাঁচজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করত।

মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, এর আগে জহির তার বড় ছেলে বাবুকে নিয়ে কলাবাগান ও ধানমন্ডিতে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এপ্রিলে বাবু মাদকসহ গ্রেফতার হলে তারা ধানমন্ডির বাসা পরিবর্তন করে এলিফ্যান্ট রোডে বাসা ভাড়া নেয়। টেকনাফে তার একটি ফার্মেসি আছে। প্রায় ১০-১২ বছর ধরে মূলত ওষুধ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। আটক জহিরের জামাতা আবদুল আমিন ও তার ভাই নুরুল আমিনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আসামি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads