• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সমুদ্রতীরে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনা

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সমুদ্রতীরে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনা

  • মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার
  • প্রকাশিত ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সমুদ্র ঘেঁষেই নির্মিত হচ্ছে স্থাপনা। বালিকা মাদরাসা পয়েন্টে ঝাউবনের প্রায় এক একর জমি ঘেরাও দিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। সেখানে কী নির্মিত হচ্ছে- এ বিষয়ে অবশ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও এসিল্যান্ডের কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সঠিক উত্তর নেই জেলা প্রশাসনের কাছেও।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাউবনের প্রায় এক একর অংশ ঘিরে তৈরি করা হয়েছে দুটি ঘর। কবিতা চত্বর-এর উত্তর পাশে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি অনেকটা জেটির আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে কাঠের একটি উঁচু ফ্লাইওভার। এসব নির্মাণে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ঝাউগাছ।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারমেইড ক্যাফের ম্যানেজার রানা বলেন, প্রশাসনের মেহমানদের জন্য এখানে কফি হাউজ বানানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাগরে নামার জন্য জেটি বানানো হচ্ছে। তাই চারদিক ঘেরাও করে কাজ চলছে। তবে বিস্তারিত বলতে পারবেন এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি)।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ লোকজনের বিনোদনের জন্য বসার স্থান বানানো হচ্ছে। সাগরে যারা পোনা নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার জন্য এবং এলাকাটি একটু নির্জন থাকায় এখানে প্রায়ই ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধ হয়। তাই সেখানে একটি চৌকি নির্মাণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সৈকতের মাদরাসা পয়েন্টে একটি চৌকি নির্মাণের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমি জানি। তবে এক একরের মতো জমি ঘেরাও করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি অবগত নই। জেটি নির্মাণের বিষয়টিও আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। যদি এমন কিছু হয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষা ও সংরক্ষণে ২০১১ সালে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সৈকতের নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। নতুন এ স্থাপনার বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ বলেন, ‘শুনেছি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতে এ স্থাপনাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এ স্থাপনা নির্মাণে অধিদফতরের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়েস কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সৈকত এলাকা সংরক্ষণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে আন্দোলন করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে সৈকত রক্ষায় হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৭ জুন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সৈকত রক্ষা এবং সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু নতুন করে একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখছি না।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads