• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
প্রেমিকের গোপন দৃশ্য ফাঁসের হুমকি এবং কর্তৃপক্ষের স্কুলে যেতে বাধা

আপত্তিকর মেসেজ এবং গোপন দৃশ্য ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিতে কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

অপরাধ

প্রেমিকের গোপন দৃশ্য ফাঁসের হুমকি এবং কর্তৃপক্ষের স্কুলে যেতে বাধা

কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

  • কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আপত্তিকর মেসেজ এবং গোপন দৃশ্য ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে এক প্রেমিক। এতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয় তাকে আর স্কুলে আসতে হবে না। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আটিগ্রামের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৫)। পরে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। প্রেমিকের এমন আচরণ সইতে না পেরে গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া। এলাকাবাসী জানায়, মিরপুর উপজেলার নতুন আটিগ্রাম এলাকার নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পাশের পুরাতন আটিগ্রাম এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে শাহরিয়ার আসিফ জমজমের। নানা কারণে ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়েই চলছিল তাদের সম্পর্ক। গত শনিবার সন্ধ্যায় শাহরিয়ার আসিফ জমজম সুমাইয়ার মায়ের মোবাইলে আপত্তিকর মেসেজ পাঠায়। একই সঙ্গে তাদের দুজনের গোপন ভিডিও দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় শাহরিয়ার।

এ বিষয়ে সুমাইয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, আমার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলেটি বড়। সুমাইয়া ছোট হওয়ায় একটু বেশিই আদরের। কিন্তু বখাটে শাহরিয়ার আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না। তার অশোভন আচরণের কারণেই সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। সুমাইয়া পড়ালেখায় বেশ ভালো ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সুমাইয়া মানসিকভাবে কিছুদিন ভেঙে পড়েছিল। তাই সপ্তাহখানেক সে স্কুলে যেতে পারেনি। পরে সুমাইয়া স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সাফ জানিয়ে দেয় তাকে আর স্কুলে আসতে হবে না। এতে আমার মেয়ে মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়ে। আর নানা কারণেই মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুর জন্য শাহরিয়ার ও তার পরিবারকে দায়ী করেন তিনি।

সুমাইয়ার মা বিলকিস খাতুন জানান, শাহরিয়ার বখাটে প্রকৃতির। বেশ কিছুদিন ধরেই সুমাইয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। মাস চারেক আগে শাহরিয়ার তাদের বাড়িতে এসে মেয়ে সুমাইয়ার কক্ষে প্রবেশ করে। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দুজনের বিয়ের বিষয়ে কথা হয়। কিন্তু শাহরিয়ার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় তাদের দুজনের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুমাইয়া। ওই ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সুমাইয়া যে স্কুলে পড়ত সেই আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ স্কুলে আসতে বারণ করেন। এমতাবস্থায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুমাইয়া। গত শনিবার সন্ধ্যায় শাহরিয়ার আবার সুমাইয়ার সঙ্গে এমন আচরণ করলে বাধ্য হয়েই আত্মহননের পথ বেছে নেয় সুমাইয়া।

সুমাইয়ার বান্ধবী নূপুর খাতুন জানায়, সুমাইয়া খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। শাহরিয়ারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝে তাদের মধ্যে সম্পর্কের ঘাটতি হয়। গত শনিবার শাহরিয়ার মোবাইলফোনে মেসেজে আপত্তিকর কিছু লেখা এবং গোপনীয় কিছু ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে সুমাইয়া আত্মহত্যা করে।

আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, আমি বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক জানি না। তবে স্কুল থেকে কেন বারণ করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক জানেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই সুমাইয়া স্কুলে আসে না।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে যা মনে হয়েছে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। তবে মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads