• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বিক্রি হচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবাগানের জমি

ঝাউবাগানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি

ছবি : বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

বিক্রি হচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবাগানের জমি

  • মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশে ঝাউবাগানের জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতি শতক জমি ১০ হাজার টাকা করে কিনছেন বলে জানান ঝাউবাগানের গাছ কেটে বসবাসকারীরা। আর এ কাজে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে টাকার ভাগ নিচ্ছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। গত দুই বছরে অন্তত ২০ একর সরকারি ঝাউবাগানের জমি বিক্রি হয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে অন্তত তিন শতাধিক অবৈধ  ঘরবাড়ি। এসব ঘরবাড়ির মধ্যে বেশকিছু পাকা বাড়িও রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, উপকূলের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত এসব ঝাউবাগান ধংস হলে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনা বাড়বে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বন বিভাগ জড়িত না থাকলে কেউ ঝাউগাছে হাত দিতে পারে না।

কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া এলাকার উপকূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিশাল ঝাউবাগানের সেই সৌন্দর্য এখন আর নেই। সেখানে থাকা বেশিরভাগ ঝাউগাছ কাটা পড়েছে। আর সেই ঝাউবাগানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত মাসে সমিতিপাড়া বহুমুখী সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া তিনটি পরিবারের কাছে ১০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। তারা সেখানে থাকা ঝাউগাছ কেটে ইতোমধ্যে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেছেন। সোনা মিয়ার কাছ থেকে জমি কিনে বসবাস করা হুমায়রা বেগম বলেন, আমরা আগে কিছু দূরে ভাড়াবাসায় থাকতাম। পরে সোনা মিয়ার কাছ থেকে এক গণ্ডা (২ শতক) জমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। একইভাবে সৈয়দ আলম বলেন, আমি সোনা মিয়ার কাছ থেকে ২ শতক জমি কিনেছি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে। বাকি টাকা পরে দেব। বদি আলমের কাছে জমি বিক্রি করেছেন একই ব্যক্তি।

আরেকটু পাশে গিয়ে দেখা যায়, একসময়ের বন বিভাগের কর্মী বর্তমানে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মোস্তাক কয়েক বছর আগে কিছু জমি বিক্রি করেন। সেই জমিতে এখন বসতি গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া নাজিরার টেক এলাকায় বর্তমানে মোস্তাক আরো ৫ একরের মতো ঝাউবাগানের জমি ঘিরেছেন বিক্রির জন্য।

আলাপকালে জমিলা বেগম নামের একজন বলেন, আমরা সপরিবারে এখানে আছি পাঁচ বছরের বেশি। সে সময় এখানে অনেক ঝাউগাছ ছিল। এত বেশি বাড়িঘরও ছিল না, এখন অসংখ্য বাড়িঘর হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে বন বিভাগের লোকজন এলেও তাদের এলাকার মানুষ সবাই মিলে টাকা দিলে আর আসে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মূলত ১৯৯১ সালের পর থেকে এখানে মানুষ বসবাস করা শুরু করেছে। প্রথম দিকে আসা কেউ সমুদ্রপাড়ে বসবাস করত না। সেখানে ঘন জঙ্গল ছিল। সব ঝাউগাছ আর ঝাউগাছ। কিন্তু এখন তার ১০ ভাগ ঝাউগাছও নেই। সব দখল হয়ে গেছে। মূলত সরকারদলীয় নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজন এসব সরকারি জমি বিক্রি করে। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে বন বিভাগ।

আলাপকালে স্থানীয় সমাজপতি সোনা মিয়া বলেন, বন বিভাগ এবং সরকারি জমি বিক্রি করার আমি কে? আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি। তারা আমার নাম ব্যবহার করছে। কক্সবাজার পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, বন বিভাগের লোকজন জড়িত না থাকলে ঝাউবাগানে হাত দেওয়ার মতো সাহস কারো নেই।

কক্সবাজার সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ বলেন, ঝাউগাছ আমাদের হলেও জমি সরকারি। আর একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় সবসময় আমাদের নজরদারি রাখাও কঠিন। তবে এটাও সত্য, সেখানে আমাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীসহ কয়েক জনের নাম শোনা গেছে, যারা ঝাউবন উজাড় করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কাজ চলছে।

অন্যদিকে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, সেখানে আমি একবার অভিযান চালিয়েছিলাম তবে সে সময় অভিযুক্তরা পালিয়ে গিয়েছিল। ঝাউবন রক্ষায় আবারো উচ্ছেদ অভিযানসহ সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads