• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নারী নির্যাতন মামলায় আসামি ন্যানসি

সঙ্গীতশিল্পী ন্যানসি

সংরক্ষিত ছবি

অপরাধ

নারী নির্যাতন মামলায় আসামি ন্যানসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছে সঙ্গীতশিল্পী ন্যানসিকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় করা ওই মামলায় শুক্রবার ন্যানসির ভাই শাহরিয়ার আমান সানিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ন্যানসি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার ভাইয়ের সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে গেছে বলেও জানান।

বাংলাদেশের খবরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘সানির বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন সামিউন্নাহার শানু। এতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয় ন্যানসি ও তার স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদের বিরুদ্ধে। সানিকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বিয়ে হয় সানি ও শানুর। বর্তমানে তাদের চার মাসের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক মাস পর সানি বেকারত্ব দেখিয়ে শানুকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও আসবাবপত্র এনে দিতে চাপ দেন। এতে শানু অপারগতা প্রকাশ করলে সানি তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। সম্প্রতি সানির এসব অপকর্মে বড় বোন সঙ্গীতশিল্পী ন্যানসি ও তার স্বামী জায়েদ সাহায্য করেন। এক পর্যায়ে গত ২৬ আগস্ট রাত ৯টায় শানুকে তার বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন সানি। টাকা না দিলে তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শানুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান সানি। শানুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই শানুকে নেত্রকোনা সদর হাতপাতালে ভর্তি করান তার বাবার বাড়ির লোকজন।

মামলার ব্যাপারে ন্যানসির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বানোয়াট একটি অভিযোগ। আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্য আমাকে আসামি করা হয়েছে।’ নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে ন্যানসি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ নেই। আমি নেত্রকোনা থাকি না। তাই তারা কৌশলে লিখেছে আমার এবং আমার স্বামীর উসকানিতে সানি তার স্ত্রীকে নির্যাতন করত। এ ধরনের মামলায় শুধু ছেলেকে দায়ী করলে তো জিনিসটা জোরালো হয় না। ছেলের সঙ্গে তখন ছেলের পরিবারের লোকজনদেরও যুক্ত করা হয়। সানি আমার ভাই বলেই তারা আমার নাম যুক্ত করেছে। এখানে মূল টার্গেট সানি না। মূল টার্গেট হলাম আমি।’

ন্যানসি দাবি করেন, অভিযোগগুলোর সঙ্গে তিনি, তার স্বামী বা ভাই কেউ জড়িত নন। আপনি তো নেত্রকোনা থাকেন না, কীভাবে নিশ্চিত হলেন আপনার ভাই নির্যাতন করেননি- জানতে চাইলে ন্যানসি বলেন, ‘যদি সত্যিকার অর্থে কোনো নির্যাতন করা হতো, তাহলে সে (শানু) নিশ্চয় আমাদের জানাত। আমাদের বলত যে, আপা আপনার ভাই আমার সঙ্গে এগুলো করছে। সে কখনো আমাদের কাছে এসব ব্যাপার নিয়ে আসেনি।’

গত ২৭ আগস্ট শানুকে তালাক দেয় সানি জানিয়ে ন্যানসি আরো বলেন, ‘মেয়েটা নির্যাতনের শিকার সেটা তালাকের ১১ দিন পর বুঝতে পারল? আমরা যেটা বুঝতে পারছি সেটা হলো- তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর তারা পারিবারিকভাবে আমাদের চাপে রাখার জন্যই মামলাটি করেছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads