• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ইয়াবা সেবন-বিক্রির নিরাপদ আখড়া মাদক নিরাময় কেন্দ্র

ইয়াবা

সংরক্ষিত ছবি

অপরাধ

ইয়াবা সেবন-বিক্রির নিরাপদ আখড়া মাদক নিরাময় কেন্দ্র

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নজরদারির অভাবে কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই পরিণত হয়েছে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির নিরাপদ আখড়ায়। যেগুলো চালাচ্ছে মাদকসেবীরাই। অনেক সময় এসব নিরাময় কেন্দ্র থেকে মাদক মামলার আসামিদের ডাক্তারি সার্টিফিকেট দিয়ে জামিনের জন্য সহযোগিতাও করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করায় বেশ কিছু কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত মে মাসে সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর অনেক মাদক বিক্রেতা ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে দিয়েছে গা ঢাকা। আবার কিছু বিক্রেতা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। রাজধানীর কোনো মাদক স্পটে ইয়াবা না পাওয়া গেলেও এসব নিরাময় কেন্দ্রে তা বিক্রি হচ্ছে। সেখানে বসে নিরাপদে সেবনও করা যাচ্ছে এই মাদক।  সম্প্রতি মিরপুর শাহআলী মাজারের পেছনের সড়কে অবস্থিত ‘ছায়ানিবাস’ নামের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দোতলার জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে; নাকে আসছে বিস্কুটের গন্ধ। ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল কয়েকজন যুবক ইয়াবা সেবন করছে। স্থানীয় এক দোকানদার জানান, এই নিরাময় কেন্দ্রে সারাদিনই মাদক সেবন করে বেশ কয়েকজন যুবক। তারাই পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বা কোনো কমর্তকর্তার সঙ্গে আলাপ করতে চাইলে এক যুবক বলেন, আমিই মালিকদের একজন। মাদকাসক্ত রোগীদের কী সেবা দিয়ে থাকেন এবং কীভাবে রোগী আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি টিম গিয়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে তিনজন ডাক্তার রয়েছে দাবি করলেও একজনেরও দেখা মেলেনি।

প্রায় একই অবস্থা দেখা যায় মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকার ‘অনুসন্ধান’ নামক আরেকটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। খালি গায়ে চার যুবক কিছু একটা সেবন করছে। তবে সেখানে বিস্কুটের গন্ধ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এক মাদকাসক্তকে চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইয়াসিন আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছিলে। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর এলাকার ‘পরিবর্তন’ নামের আরেকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কিছুদিন আগে দুটি হত্যাকাণ্ড হয়, যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মিরপুর এলাকার শুধু ‘ছায়ানিবাস’, ‘অনুসন্ধান’ ও ‘পরিবর্তন’ই নয় আরো অন্তত ১৫টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও কেন্দ্রের ভেতরে বসেই সেবনের সুযোগ রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আসলে মাদকসেবীরা নিরাময় কেন্দ্র চালাচ্ছে, বিষয়টি তেমন না। এক সময় মাদকাসক্ত ছিল, পরে ভালো হয়ে গেছে তারাই মূলত চালাচ্ছে। নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করায় গত কয়েক মাসে ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads