• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যা রহস্য উদঘাটন

গোয়ালন্দের মঞ্জু হত্যায় জড়িত তিন আসামি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যা রহস্য উদঘাটন

  • গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ নভেম্বর ২০১৮

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিনের মধ্যে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেফতার, ছিনতাই হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের নিকট এ হত্যার রহস্য প্রকাশ করেন।

থানা পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা মোটর সাইকেল চালক মঞ্জু শেখকে (২৮) হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে চার খুনি। এ ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে মঞ্জুর বাবা বাবলু শেখ।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সরাসরি হত্যায় অংশ নেয় গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আক্কাছ শেখের ছেলে কোবাদ শেখ (২০), সুলতান মৃধার ছেলে সাহাদত মৃধা (২৮), বিল্লাল মোল্লার ছেলে মনোয়ার হোসেন মনু (২২) ও বাতেন সরদারের ছেলে রিপন সরদার (২৬)। অপরজন ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলের ক্রেতা ফিরোজ বেপারীর ছেলে রুবেল বেপারী (২৮)।

ছিনতাই হওয়ার আগেই খুনিরা মঞ্জুর ডিসকভার মোটরসাইকেলটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় রুবেলের কাছে বিক্রি করে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মঞ্জুকে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করে সেই টাকা ভাগ করে নেয় চার খুনি। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় গ্রেফতারকৃতরা অকপটে হত্যার কথা স্বীকার করে খুনের বর্ণনা দেয়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ে উদ্দেশে গত ২৮ অক্টোবর দুপুরের পর থেকে মঞ্জুকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে। এরপর রাতে ইলিশ মাছ কেনার কথা বলে মঞ্জুর মোটরসাইকেল স্থানীয় আক্কাছ আলী হাই স্কুলের সামনে রেখে খুনিদের একজন সেখানে অপেক্ষা করে অপর ৩জন তাকে নিয়ে নদীপারের দিকে চলে যায়। সেখানে মঞ্জুকে হত্যা করতে গেলে সে সবকিছুর বিনিময়ে তাকে প্রাণে না মারার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করে। কিন্তু তারা ধারালো অস্ত্রদিয়ে তাকে কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে মঞ্জু প্রাণ বাঁচাতে দুইজনকে কামড়ে আহত করে। এরপর তারা মঞ্জুর মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে রেখে দৌলতদিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।

নিহত মঞ্জুর ভাই আলমগীর শেখ বলেন, জীবিকার জন্য বাকিতে যে মোটরসাইকেলটি কিনে আমার ভাই যাত্রী পরিবহন করে সংসার চালাতো, সেই মোটরসাইকেলের জন্য তার প্রাণ দিতে হলো। পুলিশ দ্রুত আমার ভাই হত্যা রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের গ্রেফতার করায় আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। আমার ভাইকে আর পাব না, কিন্তু খুনিদের ফাঁসি হলে একটু সান্তনা পাব।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এজাজ শফী জানান, ক্লুলেস একটি মামলা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads