• মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৪
ads
চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর হামলায় মামলা

মোংলা বন্দর

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

মোংলা বন্দরে নিয়োগ পরীক্ষা

চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর হামলায় মামলা

  • মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০১৮

নিয়োগ পরীক্ষায় পছন্দের প্রার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও পরীক্ষাকেন্দ্র ভাঙচুর করেছেন বন্দরের সিবিএ নেতারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থগিত করা হয়েছে নিয়োগের অবশিষ্ট পরীক্ষা। এ ঘটনায় সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টুসহ দুই নেতাকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটলেও বিলম্বে রাত পৌনে ১১টার দিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দফতরের সূত্র।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, শুক্রবার বেলা ১১টায় খুলনার নৌবাহিনী স্কুলে ৯টি ক্যাটাগরিতে ৪০টি পদে নিয়োগের জন্য তিনটি ধাপের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে ফল ঘোষণা করা হলে দেখা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতাদের পছন্দের প্রার্থীরা কৃতকার্য হননি। এতে তারা পরের ধাপের পরীক্ষা বন্ধ করতে হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী পরীক্ষা বন্ধ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান, পরিচালক প্রশাসন প্রণব কুমার রায়, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) আফসানা ইয়াসমিন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী, যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আবদুল আলীমকে লাঞ্ছিত করে তাদের গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি আটকে রাখেন। এ সময় পরীক্ষাকেন্দ্র ভাঙচুর করা হয় বলেও জানান সচিব। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের গাড়িতে করে ওইসব কর্মকর্তাকে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (কর্ম) সালাউদ্দিন কবির বাদী হয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টুকে আসামি করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করেন।

এ বিষয়ে কাজী খুরশিদ আলম পল্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় বন্দরের ইতিহাসে লিখিত পরীক্ষায় কোনো দিন ‘হার্ড’ প্রশ্ন করা হয়নি। এবারে যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে অনেকেই উত্তীর্ণ হতে না পারায় আমি প্রতিবাদ জানিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, আগে মোংলা বন্দরে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ ভাগ পোষ্য কোটা চালু ছিল। কিন্তু পরে তা বাতিল হয়। অথচ বর্তমান সিবিএ’র নেতাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সেই পোষ্য কোটা পুনরায় বহালের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সিবিএ’র নেতারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে বিশেষ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাদের আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্য প্রার্থী দেন। ওই প্রার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেন ওই কর্মচারীরা।

বন্দর সূত্র জানায়, পাম্পচালক পদে ৫ জন, গাড়িচালক পদে ৮ জন, গ্রিজার-কাম-পাম্প চালক পদে ২ জন, কার্য-সহকারী পদে ২ জন, জাহাজের প্রথম শ্রেণির চালক পদে ২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির চালক পদে ৩ জন ও ফোরম্যান পদে ১ জনসহ মোট ৪০টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার কথা ছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads