• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
সেই আবজাল দম্পতি লাপাত্তা

স্বাস্থ্য অধিদফরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানম

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

সেই আবজাল দম্পতি লাপাত্তা

  • রেজাউল করিম হীরা
  • প্রকাশিত ২৩ মার্চ ২০১৯

স্বাস্থ্য অধিদফরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে এ দম্পতির অবৈধভাবে অর্জন করা সম্পত্তি ক্রোক করে আদালতের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু সম্পদ ক্রোকের কাজ শুরু করলেও তাদের খোঁজ নেই। এমনকি তাদের অবস্থানও শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক এ দম্পতির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সম্প্রতি দেশ ছেড়েছেন উল্লেখ করে পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারের (ইমিগ্রেশন) কাছে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতে পাসপোর্টের নম্বর দিয়ে এ দম্পতির বিদেশ গমনের তথ্য চেয়েছে দুদক। এর আগে চলতি বছরের গত ৭ জানুয়ারি পুলিশের বিশেষ শাখায় (ইমিগ্রেশন) আবেদন করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে সংস্থাটি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিপুল অংকের অবৈধ অর্থের তথ্য দেন। তারপর থেকে আবজাল দম্পতির আর হদিস নেই। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বিশেষ শাখার কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, এই দম্পতির যে অঢেল সম্পত্তি রয়েছে, তার উৎসের খোঁজ আমরা করছি। সে এখন পালিয়ে আছে, কিন্তু এক সময় ঠিকই ধরা পড়বে। আর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা এই দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে থেকেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মতো জায়গায় বাড়ি করেছেন। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে সে কথা স্বীকারও করেছেন তিনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আবজালের সম্পদের পাহাড়। কোথাও নিজ নামে, আবার কোথাও স্ত্রীর নামে রয়েছে এসব সম্পদ।

দুদক যেসব সম্পদের তথ্য পেয়েছে সেগুলোতে আদালতের নির্দেশে ক্রোকের নোটিশ টাঙিয়েছে। রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনে ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের ভবনটি স্ত্রীর নামে ২০১০ সালে কিনেছিলেন আবজাল। এ ভবনের ছয়তলায় থাকতেন আবজাল দম্পতি। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে পরিবার নিয়ে বাসা ছেড়েছেন তিনি। একই সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কেও আরেকটি ভবন রয়েছে আবজালের। সেখানেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত সোমবার সকালে দুদক আবজালের উত্তরার এই দুটি বাড়িসহ দিয়াবাড়ী এলাকায় তিন কাঠা করে দুটি বাগানবাড়ীও ক্রোক করেছে। ক্রোক করার পর আদালতের নির্দেশসহ একটি বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয় এসব বাড়ির সামনে। উত্তরার তামান্না ভিলা নামে যে বাড়িটি ক্রোক করা হয়েছে মাঝে মাঝে সে বাড়ির পাঁচতলায়ও থাকতেন আবজাল দম্পতি। অভিযানের সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। আবজাল হোসেন কোথায় আছেন, তাও কেউ জানাতে পারেননি।

তামান্না ভিলার কেয়ারটেকার মামুন হোসেন বলেন, আবজাল তার স্ত্রী ও পরিবারসহ এ বাড়িতে থাকতেন। গত ২১ জানুয়ারিতে নোটিশ জারির পর তারা এখান থেকে চলে গেছেন। ওই বাড়িতে মোট আটটি পরিবার ভাড়া থাকে। বাড়ির ভাড়া উঠিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছেন কেয়ারটেকার।

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সম্পদ বিবরণী দাখিল করার পর থেকেই তারা পলাতক। আমরা তার অবস্থান জানার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।

আবজাল ও তার স্ত্রী রুবিনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। দু’জনে মিলে তৈরি করেন একটি সিন্ডিকেট। তাদের সঙ্গে আবজালের দুই ভাই ও রুবিনার দুই ভাইও আছেন। তাদেরও চাকরি হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরে। এই সিন্ডিকেট করে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার করেছেন বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। ঢাকা শহরসহ দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। আবজাল হোসেনের নামে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়ি আছে। ওই বাড়িটি তিনি বনানীর লোকমান নামে একজনের মাধ্যমে দুই লাখ ডলার দিয়ে কেনেন। পুরো টাকা তিনি হুন্ডির মাধ্যমে পাঠান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আবজাল ও রুবিনার নামে উত্তরায় ৫টি বাড়ি, বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরে একটি টিনশেড বিল্ডিং এবং আড়াই কাঠা জমি, সাভারে ১৫ শতাংশ জমি, ফরিদপুরে দোতলা বাড়ি এবং ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় সাড়ে বাইশ শতাংশ জমি, ঢাকার কেরানীগঞ্জে দোকান, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে ৬ কাঠা জমি আছে। এ ছাড়া আবজালের হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট  পরবর্তী সময়ে যাচাই বাছাই করে দুদক জানবে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি রয়েছে আবজাল দম্পতির। দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আবজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে আবজাল দম্পতি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে দুদক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads