• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র তৎপরতা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র তৎপরতা

সংরক্ষিত ছবি

অপরাধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র তৎপরতা

  • ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ এপ্রিল ২০১৯

আধিপত্য বিস্তারের নামে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে চলছে সশস্ত্র তৎপরতা। রোহিঙ্গারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নিয়ে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।

প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নিয়ে এদেশের সরকার ও জনগণ যে মানবিক আচরণ দেখিয়ে যাচ্ছে তা বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিজীবনের আচরণ সাধারণ বাঙালিদের বিষিয়ে তুলেছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা তাদের আশ্রয়স্থলকে অস্থিতিশীল করায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের এসব সশস্ত্র কর্মকাণ্ড বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। শুধু তা-ই নয়, এসব ঘটনা নিয়ে ভবিষ্যৎ আলামত কী, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের এসব অধিবাসীর মধ্যে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এর পাশাপাশি কেউ কেউ জঙ্গিপনায় জড়িয়ে যেতেও তৎপর। রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে টিকতে না পারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসী গ্রুপের বহু সদস্যও চলে এসেছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত ৩০ শিবিরে মূলত এদের অবস্থান।

এ ছাড়া সন্নিহিত এলাকাজুড়েও বিক্ষিপ্তভাবে এসব রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মিয়ানমারে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের বিভিন্ন নামে পরিচিতিও রয়েছে। সে পরিচয় নিয়েই এসব সন্ত্রাসী এখন নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারে অপতৎপরতা শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় সশস্ত্র তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মার্চ উখিয়ার কুতুপালংয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির বড় ঘটনাটি ঘটেছে। এতে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়। ঘটনার পর পুলিশ ১৩ জনকে আটক করে। দুই গ্রুপের অন্তর্কোন্দলে সার্বিক পরিস্থিতি সবসময় উত্তপ্তাবস্থায় থাকছে। ফলে সাধারণ নিরীহ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর  তৎপরতা নিয়ে শঙ্কিত। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়, তা নিয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারে যাদের পরিচয় আরাকান বিদ্রোহী, তাদের বেশকিছু সদস্য সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপের ক্যাডাররাই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ক্যাম্পে খুন-খারাবি, রাহাজানি, ছিনতাই, ডাকাতি, গুম, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মে জড়িয়ে পড়ছে। মাঠ দখল, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, দেশি-বিদেশি ত্রাণসামগ্রীর ভাগবাঁটোয়ারাসহ আইন অমান্যের সঙ্গে এরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। দিন দিন এর বিস্তৃতিও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, এদের কাছে অবৈধ অস্ত্রের মজুতও রয়েছে বলে জানা যায়, যা সুযোগ বুঝে এরা ব্যবহার করে। গত ১৭ মার্চ গভীর রাত থেকে ভোর অবধি দুই গ্রুপের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রকম্পিত হয় আশ্রয় শিবিরগুলো।

এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে উখিয়া-টেকনাফ থেকে স্থানান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে আছে। কিন্তু আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে যেমন অনিচ্ছুক, তেমনি ভাসানচরে স্থানান্তরিত হতেও চায় না তারা। এই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের কিছু এনজিও ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং অর্থায়নে ইতোমধ্যে ভাসানচরে জাতিসংঘ অনুমোদিত সব দিক রক্ষা করে যে বাড়িঘর নির্মিত হয়েছে তা নিয়েও রোহিঙ্গাদের মাঝে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর পক্ষে ইতোমধ্যে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ভাসানচরের বাড়িঘর কারাগারতুল্য বলে তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটির পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য দুঃখজনক বলে দাবি করেছে নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত বক্তব্যে এইচআরডব্লিউর বিবৃতির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শন না করে ভাসানচর নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনো কাম্য হতে পারে না। এ ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য প্রচার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেও মত ব্যক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভাসানচর প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ব্যয় করা হয়ে গেছে। সোলার বিদ্যুৎ সিস্টেমে যে মানসম্মত বাড়িঘর রোহিঙ্গাদের সাময়িক বসবাসের জন্য নির্মিত হয়েছে, তা একটি রেকর্ড।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads