• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
তিতাসে ২২ খাতে দুর্নীতি : দুদক

লোগো তিতাস ও দুর্নীতি দমন কমিশন

অপরাধ

তিতাসে ২২ খাতে দুর্নীতি : দুদক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০১৯

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে ২২ খাতে সম্ভাব্য দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে। গতকাল বুধবার দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক ১২ দফা সুপারিশও করেছে।

দুর্নীতির খাতগুলো হলো- অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃসংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটরে গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান-সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস কম সরবরাহ করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি (ইলেকট্রনিক ভলিউম কারেক্টর) না বসানো ইত্যাদি। দুদকের দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম কর্তৃক প্রণীত অনুসন্ধানী এবং পর্যবেক্ষণমূলক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, তিতাস গ্যাস-সংক্রান্ত টিম অনুসন্ধানকালে তিতাস গ্যাস কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে যারা সম্যক ধারণা রাখেন তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করেছে। এছাড়া টিম পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যসহ ভুক্তভোগী সেবা গ্রহীতাদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা ও অডিট প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে।

সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে টিম তিতাস গ্যাস কোম্পানির দুর্নীতির উৎস ও ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে প্রণীত সুপারিশমালা কমিশনে দাখিল করেছে। কমিশনের এই প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সহজ হবে। দুর্নীতি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা গেলে মামলা-মোকদ্দমার প্রয়োজন পড়বে না।

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার যে ঘোষণা দিয়েছে, কমিশন তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দুদকের এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে দুর্নীতির জনশ্রুতি রয়েছে এমন ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছে কমিশন। এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি টিমের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads