• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
মানব পাচারে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের চক্র

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

মানব পাচারে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের চক্র

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ মে ২০১৯

অবৈধ পথে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৩৯ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ৩৯ জনের মধ্যে ২২ জনের বাড়িই সিলেট বিভাগে। মানব পাচারে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র এবং মাদারীপুরের দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লিবিয়া থেকে একটি নৌকায় ১৫০ জন অভিবাসী যাত্রী ইতালির উদ্দেশে গত ৯ মে ভোরে রওনা দেন। তার মধ্যে ১৩০ জন যাত্রী ছিলেন বাংলাদেশি। সারা দিন চলার পরে ৯ মে রাতে দুটি পৃথক নৌকায় এসব যাত্রীকে তুলে দেওয়া হয়। প্রথম নৌকাটি ইতালি উপকূলে পৌঁছেছে। তবে দ্বিতীয় নৌকাটি ডুবে যায়। এই নৌকায় ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ধারণ ক্ষমতার অধিক হওয়ায় দ্বিতীয় নৌকাটি ১০ মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায়। সে সময় সবাই সাঁতার কেটে বাঁচার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ তেলের ড্রাম ও ডুবন্ত নৌকার কিনারা ধরে থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। এভাবে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা পর ১০ মে সকালে তিউনিসিয়ার কয়েকজন জেলে তাদের উদ্ধার করেন।

তিনি আরো জানান, ১৪ জন বাংলাদেশি যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই চারজন তিউনিসিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকি ১০ জন রেড ক্রিসেন্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ইতালি উপকূলে যে নৌকাটি পৌঁছেছে, সেখানে ঠিক কতজন বাংলাদেশি ছিলেন, সেটা আমরা জানতে পারিনি। যারা জীবিত রয়েছেন, তারা ফিরে আসতে চাইলে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন সিলেট বিভাগেরই ২২ জন। তারা হলেন-

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের আবদুল আজিজ, আহমদ, লিটন আহমেদ, আয়াজ আহমেদ, বিশ্বনাথের খোকন; গোলাপগঞ্জের আফজাল হোসেন, কাশেম; বিশ্বনাথের মমিন আহমেদ, দিলাল আহমেদ; সুনামগঞ্জের মৌলানা মাহবুবুর রহমান, বাংলাবাজারের জিল্লুর রহমান, সিলেটের কামরান আহমেদ মারুফ, বিশ্বনাথের রুকন আহমেদ, মৌলভীবাজারের হাফিজ শামিম আহমেদ,  মৌলভীবাজারের বড়লেখার ফাহাদ আহমেদ, বিয়ানীবাজারের সুজন আহমেদ, ইন্দ্রজিত, সিলেট; জুয়েল, বড়লেখা, সিলেট; মুক্তাদির, হবিগঞ্জ; শোয়েব, বিয়ানিবাজার, সিলেট ও সাজু, সিলেট।

নিখোঁজ অন্যরা হলেন- সাব্বির, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; আলী আকবর, বাগমারা, শিবচর, মাদারীপুর; জাকির হাওলাদার, শিবচর, মাদারীপুর; মনির, শরীয়তপুর; শাহেদ, রাজৈর, মাদারীপুর; নাইম, রাজৈর, মাদারীপুর; রাজিব, শরীয়তপুর; জালালউদ্দিন, কিশোরগঞ্জ; পারভেজ, শরীয়তপুর; স্বপন, মাদারীপুর; সজল, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; জাহিদ, নরসিংদী; আবদুর রহিম, নোয়াখালী; নাজির আহমেদ, সুনামগঞ্জ; নাদিম, রাজৈর, মাদারীপুর; নাসির আহমেদ, চাটখালী, নোয়াখালী ও সজিব, মাদারীপুর। নিখোঁজ সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads