• সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৫
ads

অপরাধ

ইয়াবার বাহক কবুতর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ মে ২০১৯

ইয়াবার আগ্রাসন দেশে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নেশা দ্রব্যটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর জন্য নানা মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। ধরা পড়লেই মাধ্যমটি সমন্ধে জানা যাচ্ছে। সর্বশেষ কবুতর বা পায়রা ইয়াবা পাচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের কারণে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এই ট্যাবলেট নির্বিঘ্নে আনতে কারবারিরা ব্যবহার করছে কবুতর।

এই পাখি নির্ভুলভাবে দিক নির্ণয় করে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। মাদক কারবারিরা প্রশিক্ষিত কবুতরের পায়ে ইয়াবা ট্যাবলেট বেঁধে কক্সবাজার থেকে উড়িয়ে দেয়। আর ঢাকায় নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছে যায় তা তিন থেকে চার দিনের মধ্যে।

একেকটি কবুতরের দুই পায়ে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রামের মতো করে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসা যায় বলে জানিয়েছেন এই পাচারে জড়িত একজন। একেকটি ইয়াবা ট্যাবলেটের ওজন ০.১ থেকে ০.২ গ্রাম। এই হিসাবে ২৫০ থেকে ৫০০টি ট্যাবলেট বয়ে নিতে পারে একেকটি কবুতর।

জানা যায়, ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হয় গিরিবাজ নামে এক জাতের কবুতর। দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রেসার কবুতরে রূপ দেওয়া হয় এই পাখিকে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জন্য ব্যবহার করা হয় থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের হুমা জাতের কবুতর।

ছয় মাস প্রশিক্ষণ দিলে এসব কবুতর এক থেকে দেড় শ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়। দূরত্ব বাড়লে প্রশিক্ষণের সময়ও বাড়াতে হয় বলে জানান কবুতর পালনকারী কায়সার হাওলাদার। রাজধানীর আদাবর এলাকার এই বাসিন্দা জানান, ১৪ থেকে ১৮ মাস ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিলে এসব কবুতর তিন থেকে চার শ কিলোমিটার দূর থেকে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় হোয়্যাইককং নামের স্থানে রেসার কবুতরের আধিক্য বেশি। তবে গত ছয় মাস আগেও এখানে কবুতরের আনাগোনা এখনকার চাইতে কম আছে। বর্তমানে হোয়্যাইককং থেকে ঢাকার উদ্দেশে কবুতর পাঠানো হয় বলে তথ্য মিলেছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার সদরের কালুর দোকান এলাকা, কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন বাহারছড়া, কলাতলী, দড়িয়ানগর, বাংলাবাজার এলাকাতেও রেসার কবুতরের আনাগোনা আছে।

তথ্য বলছে, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, হাজারীবাগ, বসিলা এলাকায় কবুতর পাঠানো হচ্ছে।

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাদকসেবী জানান, মানবদেহের বিভিন্ন স্থানে, সাইকেলের টিউবে, মোটরসাইকেলের টুলবক্সে, সবজির মধ্যে করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করা হয়। প্রশাসনের তৎপরতায় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের পদ্ধতি পাল্টাতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, কবুতর দিয়া, টোকাই পোলাপান দিয়া ইয়াবা পাঠানো সোজা। আর ধরাও পড়ে না। এই জন্য এমনে পাঠায়। পুলিশ তো আর কবুতরের পায়ের দিকে তাকাইয়া থাকব না। আর কেউ দেখলেও ধরতে পারব না।

এদিকে কবুতর প্রশিক্ষক কায়সার হাওলাদার জানান, একটি রেসার কবুতরের পায়ে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম ওজন নিজের পায়ে বেঁধে উড়তে পারে। তবে এর বেশি ওজন দেওয়া হলে তারা উড়তে পারবে না।

সামিউল কবীর নামে একজন কবুতর পালনকারী বলেন, প্রশিক্ষিত কবুতরের মাধ্যমে ওজনে হালকা এমন অনেক কিছুই হাতবদল করা যায়। প্রশিক্ষিত কবুতর ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করাটা অবাস্তব কিছু না। এর আগেও আমি বিষয়টা শুনেছি। কিন্তু সরাসরি দেখিনি।

কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, কবুতরের পায়ে বেঁধে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি নতুন। এমন অনেক কৌশল আসবে। আর সেগুলো মোকাবেলা করার সক্ষমতাও আমাদের থাকতে হবে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, কবুতর ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এমন তথ্য আমাদের কাছে একেবারেই নতুন। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং তদন্তে এর মধ্যেই একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads