• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৬ জুলাই ২০১৯

বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন সোহেল শিকদার (৪৮) নামে এক ব্যক্তি। চাকরির নিয়োগপত্র দিলেও চাকরি দিতে পারেননি কাউকে। সোহেল শিকদারের দেওয়া নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে গিয়ে চাকরি প্রত্যাশী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর থেকে সোহেল শিকদার লাপাত্তা। বহু চেষ্টা করেও তার টিকিটি পাওয়া যেত না। অবশেষে এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাসানটেকের রূপালী হাউজ ১৬০/সি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভুয়া নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাকরি খোঁজের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারক সোহেল শিকদার ও সেলিনা বেগম (৪২) নামে দুজনের সঙ্গে পরিচয় হয় মতিঝিল গোপীবাগের বাসিন্দা শিপন প্রতাবের (২৪)। সোহেল নিজেকে এমইএসের ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকরি পেতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। ভুক্তভোগী শিপন প্রতাব এইচএসসি, এসএসসি এবং অন্যান্য কাগজপত্রের মূল কপি তাকে সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে শিপনের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন তারা। চাকরির আশায় শিপন তার মা, বোন ও ভাবির স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সোহেলকে তিন লাখ টাকা দেন। এরপর প্রতারকরা শিপনের হাতে ঢাকা সেনানিবাসের ইইনসির শাখা পূর্ত পরিদপ্তরের অফিস সহকারী পদে একটি নিয়োগপত্র দেয়। এতে যোগদানের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ থাকে। যোগদানের তারিখে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিপন। তখন অপেক্ষা করতে বলে ৩ মার্চ শিপনকে আরেকটি নিয়োগপত্র দিয়ে আরো তিন লাখ টাকা দাবি করেন সোহেল। এ অবস্থায় ধারদেনা করে সেদিন আবার তিন লাখ টাকা সোহেলের হাতে তুলে দেন শিপন। টাকা দেওয়ার সময় সোহেলের স্ত্রী সেলিনা ও খলিলুর রহমান সাক্ষী ছিলেন। ওই দিন শিপনের মেডিকেল টেস্ট করাতে মিরপুর ১০ নম্বরে বৈশাখী হোটেলের সামনে যেতে হবে বলে জানান সোহেল। শিপন সেখানে যাওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নম্বরে ১৭ মার্চ মেডিকেল টেস্ট করানো-সংক্রান্ত একটি এসএমএস আসে। ১৭ মার্চ মেডিকেল টেস্ট করানোর তারিখে শিপনকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাটিকাটা চেকপোস্টে দাঁড় করিয়ে রেখে চলে যান সোহেল। ওই দিন রাত ১০টার দিকে শিপনের মোবাইলে মেডিকেল টেস্ট করানোর বিষয়ে আবার একটি এসএমএস আসে। এরপর সোহেলের প্রতারণার আরো তথ্য জানতে পারেন শিপন। পরে ছয় লাখ টাকা ও সব কাগজপত্র ফেরত চাইলে সোহেল গা-ঢাকা দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানায়, তার স্ত্রী সেলিনা বেগম ও জনৈক খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় শিপন প্রতাব ও দেবাশীষ বিশ্বাস নামে আরেকজনের কাছ থেকে একই কায়দায় ৬ লাখ করে মোট ১২ লাখ আত্মসাৎ করেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরো কয়েকজন যোগসাজশ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে। এরপর মূল কাগজপত্র আটকে রেখে টাকা আদায় ও আত্মসাৎ করে আসছিল।

পিবিআই কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মূল সনদ রেখে চাকরিপ্রত্যাশীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন সোহেল ও তার সঙ্গীরা। এ ঘটনায় ভাসানটেক থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads