• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
কারাগারে বসে মাদকের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

কারাগারে বসে মাদকের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ জুলাই ২০১৯

কারাগারে বসেই ইয়াবার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন এক সময়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন। নিজের বাহিনী দিয়ে হাজারীবাগ আক্তার হোসেন রোডের বস্তিটি নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। একাধিকবার পুলিশের অভিযানে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণকারীরা আত্মগোপনে গেলেও বারবার ফিরে এসে তারা একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং অব্যাহত অভিযানের মধ্যেই শীর্ষ সস্ত্রাসী ইমনের অন্যতম সহযোগী মাদক সম্রাট আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সন্ত্রাসী গোলাম মোস্তফা, আফগাড়ী লিটনের ছোট ভাই রঞ্জু, ইয়াবার ডিলার মহিউদ্দিন ওরফে বাবু প্রকাশ্যে ইমনের বস্তিতে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি করছে। ফলে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কোমলমতি কিশোর-তরুণরাও ইয়াবা, গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, হাজারীবাগ হাজি আকতার হোসেন রোডের ১৩৭/১/২ নম্বর বস্তিটি শীর্ষ সস্ত্রাসী ইমনের বস্তি বলে এলাকায় খ্যাত। সম্প্রতি আফজাল হক নামে এক ব্যক্তি গত ২৩ জুন মাদক সম্রাট ও জাল টাকার ব্যবসায়ী নামে পরিচিত আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে একটি আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডায়েরি নম্বর-৪৫৮, স্মারক নম্বর ৯৮১২। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুর সিন্ডিকেট জাল টাকা, জাল দলিল, জাল স্ট্যাম্প এবং মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আফজাল হকের আবেদনটি পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বরাবরে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আছাদুজ্জামান মিয়া আফজাল হকের ওই অভিযোগটি ডিসি ডিবি পশ্চিমকে দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন বলে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার সূত্রে জানা গেছে।

আফজাল হক জানান, আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুর সিন্ডিকেট জাল টাকা, জাল দলিল, জাল স্ট্যাম্প এবং মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। তিনি আরো বলেন, প্রশাসন খোঁজ নিলে আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুর এর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা এবং জাল টাকার ব্যবসা ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাবে। কামরাঙ্গীরচর এবং হাজারীবাগ এলাকার মানুষের কাছে রাজাকার গোলাম আযমের পালক ছেলে ও জামায়াত নেতা হিসেবে আলতাফ হুজুর পরিচিত।

হাজারীবাগ হাজি আকতার হোসেন রোডের বাসিন্দা মাঈনুদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবনের কারণে কামরাঙ্গীরচরের সাধারণ মানুষ আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুরকে কয়েক বছর আগে পিটিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেন। শীর্ষ সস্ত্রাসী ইমনের অন্যতম সহযোগী মাদক সম্রাট আলতাফ হোসেন ওরফে আলতাফ হুজুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সন্ত্রাসী গোলাম মোস্তফা, আফগাড়ী লিটনের ছোট ভাই রঞ্জু, ইয়াবার ডিলার মহিউদ্দিন ওরফে বাবু প্রকাশ্যে ইমনের হাজারীবাগ বস্তিতে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে ইমন বাহিনীর আলতাফ হুজুর সিন্ডিকেট তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে থাকে। অনেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads