• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
আগস্ট এলেই সক্রিয় হয় জঙ্গিরা

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

আগস্ট এলেই সক্রিয় হয় জঙ্গিরা

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ০৫ আগস্ট ২০১৯

জঙ্গি ও উগ্র ডানপন্থিরা আগস্ট মাসে সরব হয়ে ওঠে। তারা বড় ধরনের নাশকতার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। পরিকল্পনা করে। মন্ত্রী-এমপি বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেককেই টার্গেট করে। এসব জঙ্গির হিটলিস্টে প্রথম কাতারেই আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টের একটি নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবু বসে নেই তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখেও ভেতরে ভেতরে তৎপর ঘাপটি মেরে থাকে এসব উগ্র ডানপন্থি ও জঙ্গিরা। ফলে আওয়ামী লীগও এ মাসে শোক পালনের পাশাপাশি চোখ-কান খোলা রাখে।

এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমিতে যুবলীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগস্ট মাস এলেই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে চলতি মাসেও বিপদের ঝুঁকি আছে। এজন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের মদতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৮৯ সালের ফ্রিডম পার্টির সদস্যরা ধানমন্ডির বাসভবনে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল নব্য জেএমবি। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলার উদ্দেশ্যে জঙ্গিরা পান্থপথে এ অবস্থান নেয় জঙ্গিরা। কিন্তু এ তথ্য গোয়েন্দারা আগেই জেনে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর ১৩ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে পান্থপথে ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি হোটেলে এই আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। তখন থেকেই ভবনটি ঘিরে রাখে সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা। ১৪ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভবনের ভেতর থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে একপাশের দেয়াল ধসে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক জঙ্গির ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ জানতে পারে নিহত জঙ্গি নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তার নাম সাইফুল ইসলাম। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া থানায়। সে প্রথমে মাদরাসায় এবং পরে খুলনা বিএল কলেজে পড়াশোনা করেছে। নিহত সাইফুল নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বিস্ফোরিত শক্তিশালী বোমাটি সে ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরে ফাটানোর উদ্দেশ্যে ওই হোটেলে অবস্থান নিয়েছিল। গোয়েন্দারা আগাম তথ্যে বিষয়টি জেনে যাওয়ায় ভেস্তে যায় তার মিশন।

এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানিয়েছে, এবারো আগস্ট মাসকে ঘিরে ঘাপটি মেরে আছে জঙ্গিরা। তারা নিজেদের অবস্থান থেকেই নাশকতামূলক তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সেটা সম্ভব হয়ে উঠছে না। গোয়েন্দাদের মতে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীচক্রের একটি অংশ, নব্য জেএমবি, হিজবুত তাহরীর, হরকাতুল জিহাদ ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের পলাতক সদস্যরা আত্মগোপনে আছে। এরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। যে কোনো সময় তারা নাশকতায় লিপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে আগস্ট এলে এরা আরো সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। কারণ এ মাসকে তারা নিজেদের অ্যাচিভমেন্টের মাস মনে করে।

এর আগে ২০১৭ সালে সালের আগস্ট মাসে বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দার মদতপুষ্ট আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, তোমাদের অবশ্যই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই হুমকিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অসীম সরকার, সংসদ সদস্য তারানা হালিম ও ইকবালুর রহিম এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এ ব্যাপারে ওই সময় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ১৫ আগস্ট নাশকতার আশঙ্কা নেই, কোনো দিবসকে কেন্দ্র করে নাশকতা যেন না ঘটে সেজন্য গোয়েন্দাসহ সব বাহিনী সজাগ রয়েছে। সব দিবস যাতে সুষ্ঠুভাবে পালিত হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিরা নর্তন-কুর্দন করতে পারবে; কিন্তু বড় ধরনের কোনো হামলা চালাতে পারবে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

এ ব্যাপারে পুলিশের এন্টি-টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে, নির্মূল হয়নি। সুতরাং সতর্ক অবস্থানে থাকতেই হবে। দুঃখজনক হলেও জঙ্গিবাদকে এরা আদর্শ ও চেতনা মনে করে। এরা মোটিভেটেড, এদের ধারণা দেওয়া হয়, তারা ছাড়া বাকি সবাই ইসলামের শত্রু। তাই এই শত্রুদের হত্যা করা তাদের প্রধান কাজ। হত্যা করতে পারলেই বেহেস্তের টিকিট নিশ্চিত। ফলে জীবনের বিনিময়ে হলেও ইসলামের কথিত শত্রুদের হত্যা করাই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র স্বপ্ন ও লক্ষ্য। এখন সময় হয়েছে এসব জঙ্গিকে ধরে ধরে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা। পুনর্বাসনকেন্দ্রে আলেম-ওলামা দিয়ে তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করা। জঙ্গিবাদ থেকে এদের ফেরাতে হলে তাদের মধ্যে থাকা ভুল চেতনার বিনাশ ঘটাতে হবে। অন্যথায় জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটতেই থাকবে। তিনি আরো বলেন, আমরা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণ করার পাশপাশি ডিরেডিকালাইজেশনের কথা ভাবছি, যাতে তাদের ভ্রান্ত চেতনা নির্মূল হয়। তাহলেই অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads