• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

যুবলীগ নেতা মোঃ ওমর ফারুক

ছবি : বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

  • টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ আগস্ট ২০১৯

দিনে এনজিওদের ও রাতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দখলে থাকে শালবাগান ক্যাম্প। এমন অভিযোগ এলাকার শত শত গ্রামবাসীর। প্রতিনিয়ত রাতের বেলায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্রভাবে আনাগোনা করলেও আটক হচ্ছেনা উল্লেখযোগ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। ফলে দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে টেকনাফের শালবাগান, লেদা, মোছনী ও জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পের সন্ত্রসীরা খুন করল টেকনাফের এক যুবলীগ নেতাকে। এঘটনায় ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়সহ সংশ্লিষ্টদের।

২২ আগস্ট ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নির্ধারিত সময়। টেকনাফের শালবাগান কেন্দ্রীক প্রত্যাবাসনের তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গারা গোটা দিন পালিয়ে দিন কাটায়। যার ফলে প্রত্যাবাসন পক্রিয়া শুরু করা যায়নি। ওইদিন রাতেই স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্টি রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে খুন করে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মোঃ ওমর ফারুককে (২৯)। যিনি কিনা ২০১৭ সালে আগস্টেরে শেষের দিকে বাংলাদেশের টেকনাফের জাদীমুরা এলাকায় পালিয়ে আসা শতশত রোহিঙ্গা পরিবারকে আশ্রয় ও মুখে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। দুই বছরের মধ্যেই সেই যুবককে নির্মমভাবে খুন করল ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। 

এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী, গ্রামবাসীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

নিহত যুবলীগ নেতা হচ্ছেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদীমুড়া গ্রামের আবদুল মোনাফ কোম্পানীর ছেলে ও হ্নীলা ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং জাদীমুরা এম,আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০ টারদিকে জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাকে হত্যা করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০ টারদিকে রাতের খাবার শেষে পাশর্^বর্তী স্থানে নির্মানাধীন একটি ট্রেনিং সেন্টারের জন্য সড়কের উপর রাখা ইট সরাতে যান। এ অবস্থায় কয়েকজন লোক তারদিকে এগিয়ে আসলে তিনি টর্চের আলো ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সেলিমের নেতৃত্বে আরো ২০-২৫ জন সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর ও পায়ে গুলি করে। আকষ্মিক এ ঘটনায় হতবিহম্ব ওমর ফারুক বাঁচার জন্য হাতে পায়ে ধরে বিভিন্ন ভাবে আঁকুতি মিনতি করেও রেহাই পায়নি স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। সেখান থেকে আরো কয়েক গজ দুরে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে গিয়ে একে একে পা, মাথা, পেট ও কাঁধেসহ ৫টি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আরো ১০-১২ টি ফাঁকা গুলি চালিয়ে পাহাড়ের আস্তানার দিকে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে নিহতের বড় ভাই ওসমান, ইসমাইল, আমির হামজাসহ স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেন।

এদিকে যুবলীগ নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে জাদিমুরাসহ পুরো ৯নং ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে গ্রামবাসীরা। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়কে টায়ার জ¦ালিয়ে দেয়, রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সাইনবোর্ড, অফিসের ঘেরা বেড়া ভাংচুর করে। এরমধ্যে নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গাদের ডাটা এন্ট্রি অফিস, এসিএফ অফিসের মাইক্রোবাস, ডব্লিউএফপি ফুড শপ, টেরিডাস হোম হাসপাতাল রয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া অবরোধে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অবরোধ চলাকালিন টেকনাফ মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, হ্নীলা ইউপির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিক্ষুদ্ধ জনতাকে এঘটনার সুষ্টু তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নেন। এসময় শোক সন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।

নিহতের পিতা আবদুল মোনাফ কোম্পানী জানান, মানবিকতার কারণে যাদের কে আশ্রয় দিয়েছি তারাই আমার আদরের সন্তানকে খুন করেছে। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কি হতে পারে। তিনি এ হত্যাকান্ডে জড়িত চিহ্নীত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।
হ্নীলা ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে না যেতে নানা তাল বাহনা শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসীরা স্থানীয় যুবলীগ সভাপতিকেও খুন করে। এর ফলে গোটা এলাকায় স্থানীয় বাংলাদেশীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাস জানান, যুবলীগ নেতা হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads