• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

অপরাধ

বন্যপ্রাণী পাচারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রুট

মূল হোতারা অধরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশ থেকে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে পাচার হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারীরাও রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে। যদিও বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধরা পড়ছে না মূল হোতারা।

বন্যপ্রাণী পাচারের ওপর নজরদারি করা বেসরকারি সংস্থা ‘ট্রাফিক’-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বন্যপ্রাণী পাচারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি।

‘ট্রাফিক’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকার বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ পাচার হয়। ২০১০ সালেও যার পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি টাকা। ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ৫১টি বাঘের চামড়া, হাড় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশকে বন্যপ্রাণী পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়।

২০১২ সালে রাজধানীর শ্যামলী থেকে দুই মাস বয়সী তিনটি বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করে র্যাব। ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর এবং ২০১৮ সালের ৮ মে যশোর থেকে ৯টি জেব্রা, দুটি সিংহ শাবক ও দুটি চিতা বাঘের শাবক উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক পাচারচক্র বিভিন্ন দেশ থেকে আকাশপথে বন্যপ্রাণী নিয়ে আসে বাংলাদেশে। সড়কপথে এসব বন্যপ্রাণী চলে যায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায়। এরপর ভারত হয়ে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে তা পাচার করা হয়।

বন বিভাগ বলছে, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাচারের সময় প্রায় ৩২ হাজার বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে স্তন্যপায়ী ২৩৩টি, সরীসৃপ ৮০২১টি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ২৩ হাজার এবং ট্রফি-৮৮২টি (ট্রফি হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত করা বন্যপ্রাণীর অংশবিশেষ, যেমন বাঘের চামড়া, হরিণের মাংস, শিং বা চামড়া, হাতির দাঁত ইত্যাদি)।

জানা যায়, বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিংবা এর মূল হোতাদের আটক করা যায়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আটক করা সম্ভব হলেও তারা বন্যপ্রাণী বহনকারী মাত্র। তারাও আবার কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। তবে মূল হোতা দেশি-বিদেশি চক্রটি সব সময়ই রয়ে গেছে অধরা।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা বলছেন, এরই মধ্যে পরিবেশগত নানা বিপর্যয়ের কারণে দেশে অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে পাচারও হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কঠোর আইনের প্রয়োগ করা। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় বন্যপ্রাণী পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই চোরাচালানে একটি আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কখনো এই চক্র বাংলাদেশের ভেতর থেকে বিভিন্নভাবে বন্যপ্রাণী পাচার করছে আবার কখনো তারা বাংলাদেশকে বন্যপ্রাণী পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বেনাপোল, হিলি এবং বাংলাবান্ধা পোর্ট দিয়েই বেশি জীবন্ত বন্যপ্রাণী এবং ট্রফি পাচার হয়। ইদানীং পাচারকারীরা রুট বদল করে পানিপথকে বেছে নিয়েছে।

বনসংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, বন্যপ্রাণী বিষয়ে ক্রাইম এবং পাচাররোধে ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট গঠন করা হয়। তবে এ ইউনিটের লোকবল এবং লজিস্টিক সাপোর্ট অত্যন্ত সীমিত। ঢাকাকে কেন্দ্র করে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads