• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads

অপরাধ

পুল স্থাপনের নামে পুকুরচুরি

  • বরিশাল ব্যুরো
  • প্রকাশিত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বালিশ ও পর্দা কাণ্ডের হইচই ফুরাতে না ফুরাতেই বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে তেমনই এক কাণ্ড ঘটেছে। যেখানে একটি রিভার ক্রসিং পুল স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যা নিয়ে ঠিকাদারি মহল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে চলছে তুমুল আলোচনা। ঠিকাদারদের অভিযোগ পুল স্থাপনের নামে করা হয়েছে পুকুরচুরি। তবে এটিকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষের দিকে বরিশাল জেলার আওতাধীন ৬টি নদীর পরিচিতির জন্য ১৪টি রিভার ক্রসিং পুল স্থাপন করা হয়। যার মধ্যে বরিশাল নগর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর তিন পয়েন্ট ৬টি, আড়িয়াল খাঁ নদে ২টি, কালিজিরা, খয়রাবাদ, সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর তীরে ২টি করে রিভার ক্রসিং পুল স্থাপন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, প্রতিটি পুলে ৪ ফুটের একটি কলম ও ওপরে দুই ফুট বাই আড়াই ফুটের আরসিসি স্লাব রয়েছে। স্লাবের দুপাশে হলুদ রং করে তার ওপর কালো রং দিয়ে নদীর নাম ও প্রশস্ততা লেখা রয়েছে। এতেই খরচ দেখানো হয়েছে সর্বনিম্ন ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। মোট ১৪টি রিভার ক্রসিং পুল নির্মাণ ও স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। যা অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত দুজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে টাকা ব্যয় করে সেখানে পাঁচ লাখ টাকা বড় কোনো বিষয় না। তার পরও একটি পুল নির্মাণ ও স্থাপনে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করা বড় কিছু। এখানে কমবেশি দুর্নীতি অবশ্যই হয়েছে। তারা বলেন, একটি রিভার ক্রসিং পুল নির্মাণ এবং স্থাপনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকাও খরচ নেই। কিছু রড, সিমেন্ট, বালু এবং খোয়া দিয়ে ওই মাপের আরসিসি পুল নির্মাণে সর্বোচ্চ ব্যয় হতে পারে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া স্থাপন এবং ক্যারিং খরচ বাবদ আরো এক থেকে দেড় হাজার টাকা সর্বোচ্চ খরচ হতে পারে। বিল পেতে অফিস ম্যানেজ (ঘুষ) দেওয়ার পর বাকি পুরো টাকাই ঠিকাদারের পকেটে চলে গেছে। তাছাড়া কাজের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, পুল নির্মাণ এবং স্থাপন কাজের দায়িত্বে ছিলেন বাবুগঞ্জ সাব-ডিভিশনের সাব-ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার (এসডি) জাবেদ ইকবাল, উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) গাজী নূর মোহাম্মদ রিপন এবং কার্যসহকারী ছিলেন শামিম হাওলাদার। মূলত এদের তত্ত্বাবধানেই পুল নির্মাণ ও স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কাজের কার্য সহকারী শামীম হাওলাদার বলেন, এ কাজে কোনো দুর্নীতি হয়নি। এসডি এবং এসও স্যার নিজেরাই কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করেছেন।

মেসার্স রূপালী কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের অধীনে পুল নির্মাণ ও স্থাপনের কাজ করা ঠিকাদার আসলামুল হক কালাম বলেন,

 

 

 

 ১০ পার্সেন্ট লেসে আমরা ওই ঠিকাদারি কাজটি করেছি। সে হিসাবে মোট বিল পেয়েছে পাঁচ লাখ টাকার কিছু বেশি। ওই টাকা দিয়েই টেন্ডার প্রসেসিং, অফিস ম্যানেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারদের পার্সেন্টেজ দিতে হয়েছে। তবে কাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি।

কাজের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাবুগঞ্জ উপজেলা সাব-ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ ইকবাল বলেন, বালিশ বা পর্দা নিয়ে যে কাণ্ড ঘটেছে এখানে তার কিছুই হয়নি। কেননা অল্প টাকার হলেও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াতেই কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাছাড়া কাজটি করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেখানে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তাদের মধ্যে থেকে রূপালী কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ১৪টি রিভার ক্রসিং পুল স্থাপনে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। প্রতিটি পুল নির্মাণ এবং স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। শহরের মধ্যে যেসব পুল স্থাপন করা হয়েছে, তার থেকে শহরের বাইরের পুলগুলো স্থাপনে খরচ বেশি হয়েছে। সেখানে ক্যারিং খরচ বেড়েছে। তাতে করে ৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হতে পারে। এখানে পুকুর চুরির কিছু নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন বলেন, আমি এই পদে সদ্য যোগদান করেছি। তাই এই রিভার ক্রসিং পুল স্থাপন সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। পূর্বে যিনি ছিলেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads