• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads

অপরাধ

২০ ক্যাসিনো বিত্তশালীর সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ অক্টোবর ২০১৯

ক্যাসিনোর মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া ২০ জনের একটি তালিকা নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার সকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, এমন অভিযোগে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি তালিকা দুদকের হাতে এসেছে। তাদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যদিও ক্যাসিনোসংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দুদকের কাজ নয়, শুধু অবৈধ সম্পদ অর্জনের অংশটুকু দুদকের তফসিলভুক্ত।

জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ক্যাসিনোর মাধ্যমে যারা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশনের এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে। আর দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খানকে তদারক কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বৈঠকে যুবলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশের পর ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তত্ত্বাবধানে ‘৬০টি ক্যাসিনো চালানো’র খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। এরপর গত মাসের মাঝামাঝি বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবে ক্যাসিনোর হদিস মেলে। ১৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার পর ৫৮৫টি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং অবৈধ অস্ত্র পাওয়ার কথা জানানো হয় র্যাবের পক্ষ থেকে।

একই সঙ্গে ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আধুনিক আয়োজন ক্যাসিনোর সরঞ্জামের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মদ জব্দ করে র্যাব। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ২৪ লাখ টাকাও। খালেদ ফকিরাপুলের ওই ক্লাবের সভাপতি।

একই দিন ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রে র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কৃষক লীগের নেতা সফিকুল আলম ফিরোজকে।

ওই দিন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র ও বনানীর আহমদ টাওয়ারের গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়ার ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার এবং ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. কাওসার ও ওই এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদ চালান বলে র্যাব জানিয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাই, তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়, যেগুলো জুয়ার টাকায় তৈরি সম্পদ বলে র্যাব জানিয়েছে।

ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে গেণ্ডারিয়া থানা কমিটির সহসভাপতি এনামুল হক এনু ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন শেয়ারহোল্ডার। আর তার ভাই রুপন ভূঁইয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

পরে মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে দুটো রুলেট টেবিল, নয়টি বোর্ড, বিপুল পরিমাণ কার্ডসহ ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর বুধবার রাতে মনিপুরীপাড়ার বাসা থেকে পাঁচ বোতল মদসহ ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হন।

লোকমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনিই ক্লাবের ঘর ক্যাসিনোর জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। আর ওই ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা এ কে এম মোমিনুল হক ওরফে সাঈদ কমিশনার। ক্যাসিনোর ভাড়া থেকে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা করে পাচ্ছিলেন লোকমান। অস্ট্রেলিয়ার দুটি এবং দেশের কয়েকটি ব্যাংকে তার গচ্ছিত টাকার পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে পাওয়া ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ঢাকার ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনোর সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনটির চার নেতা যান আত্মগোপনে। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

অন্যদিকে সম্রাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা আরমানও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকাই সিনেমাতেও টাকা খাটাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads