• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রুম্পাকে

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রুম্পাকে

কথিত প্রেমিককে খুঁজছে পুলিশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী পুলিশ পরিদর্শকের মেয়ে। তার নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১)। তাকে বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এ ঘটনায় রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের কথিত প্রেমিককে খুঁজছে পুলিশ। হত্যার আগে রুম্পাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন। নিহত শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। পরিবারসহ রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগের একটি বাসায় থাকতেন তারা। রুম্পা পড়তেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে। গতকাল শুক্রবার সকালে রুম্পাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুম্পা ‘হত্যার’ বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আধা ঘণ্টার এ

কর্মসূচিতে অংশ নেয় বলে রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহফুজুল হক ভূঁইয়া জানান।

শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে যান। সেখানে তারা মানববন্ধন করে রুম্পা ‘হত্যার’ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। তবে এখনো কোনো কারণ উদঘাটন করতে পারেননি তারা। 

এদিকে নিহত রুম্পার মা নাহিদা আক্তার আর্তনাদ করে বলেন, তোরা এত্ত খারাপ। তোদের মনে মায়া-দয়া নেই। তোরা কোনো মায়ের পেট থেকে পড়িসনি, তোদের বিচার যেন দেইখ্যা যাইতে পারি।

গতকাল শুক্রবার ডিএমপির রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীম বলেন, অপমৃত্যুর মামলা না করে রমনা থানার এসআই খায়ের বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরাও ধারণা করছি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তা শামীম আরো বলেন, নিহত রুম্পার পরিবার দাবি করেছে, রুম্পার সঙ্গে এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশের সন্দেহের তীর ওই ছেলের দিকে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। ওই ছেলেকে পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে হয়তো অনেক প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে।

রমনা মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে তিনটি ভবন আছে। আমরা ধারণা করছি, যেকোনো একটি ভবন থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। হত্যা মামলাও হয়েছে আসামিকে অজ্ঞাত করে। ঘটনাস্থলের পাশের যে ভবনগুলো আছে, ওই ভবনের দায়িত্বে থাকা লোকদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। দ্রুতই একটি ফল পাব বলে মনে হয়।

ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাতেই ওই কিশোরীর বাবা হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিনকে এ ঘটনা জানানো হয়। পরে তিনি ঢাকায় আসেন। এর আগে তার পরিবার লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সব ধরনের রিপোর্ট চেয়েছি। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটাও আমরা জানতে চেয়েছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শারমিন রুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানান, ধর্ষণের পর রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যে ইনজুরিগুলো পেয়েছি, সেগুলো দেখে মনে হচ্ছে উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে মারা গেছে। তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কীভাবে রুম্পা সিদ্ধেশ্বরীর ওই ভবনে আসলেন তা এখনো রহস্যময়। এ ঘটনায় এখনো নির্দিষ্ট করে কাউকে সন্দেহ করতে না পারলেও বন্ধুদের কারো মাধ্যমেই এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা পরিবারের।

নিহত রুম্পার চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, টিউশনি শেষ করে বাসায় এসে টাকা-পয়সা, মোবাইল সব রেখেই বের হয়েছে। পায়ে হিল ছিল সেটাও খুলে স্লিপার পরেই বের হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, হত্যার পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এটা নিশ্চিত। তদন্ত চলছে, দেখা যাক কী হয়। আমার ভাতিজির সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি ছেলের সম্পর্ক ছিল। তাদের ভেতরে ঝামেলা চলছিল বলে আমরা শুনেছি। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ছেলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা আমরা জানি না। আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষ ওই ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, তবে এ ঘটনা নিয়ে আমার ভেতরে একটি প্রশ্ন আছে। আমার ভাতিজি রুম্পা পাশের একটি বাড়িতে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাসার নিচে যায়। এর পর রুম্পা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে বাসার নিচে ‘স্যান্ডেল আনতে’ বলে। পরে সে স্যান্ডেল নিয়ে এলে পায়ের হিল খুলে স্যান্ডেল পরে রুম্পা। এরপর ওই চাচাতো ভাইয়ের কাছে রুম্পা কানের দুল, মোবাইল, ঘড়ি, হিল (জুতা) ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়। সেগুলো ওপরে নিয়ে যেতে বলে তাকে। একই সঙ্গে মাকে বলতে বলে, তার ‘আসতে দেরি হবে’। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সে এগুলো রেখে যাবে? আত্মহত্যার পরিকল্পনা? তা হলে তো বাড়ির ছাদ আছে। ওখানে যাবে কেন? নাকি কোনো ঝামেলা ছিল, তাই এগুলো রেখে গিয়েছিল? এসব ভালো করে তদন্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads