• শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০, ২৮ চৈত্র ১৪২৬
ads
রিমান্ডে মুখ খুলছেন না পাপিয়া

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

রিমান্ডে মুখ খুলছেন না পাপিয়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে অবৈধ অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পাপিয়া দম্পতি গুলশানকেন্দ্রিক অনলাইন ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।

বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কায়কোবাদ কাজী বলেন, স্বামী ও সহযোগীসহ পাপিয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ডে তার অবৈধ সম্পদ, অনৈতিক কাজের সহযোগী ও গডফাদারদের নাম জানতে চাইলেও মুখ খুলছেন না পাপিয়া ও তার স্বামী। তবে তাদের দুই সহযোগী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। র্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়ার অপরাধ সম্পর্কে জানতে সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাসিনোকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সে বিষয়েও আমরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছি। যেহেতু সে টাকার উৎস সম্পর্কে কোনো কিছু বলছে না, সেজন্য আমরা এর মূল রহস্য বের করতে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু ক্যাসিনো নয়, আরো কোথা থেকে সম্পদ অর্জন করেছে সেদিকেও আমরা নজর দেব।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ রকম একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে অন্তত তিন মাস সময় নিয়ে থাকে। আর পাপিয়ার ক্ষেত্রে আমরা মাত্র সময় পেয়েছি ১২ ঘণ্টার মতো। আমরা মাঠে নেমেছি। রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক রহস্য বের করতে পারব।

র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমপাান ওরফে সুমন চৌধুরী অনলাইন ক্যাসিনোর গডফাদার সেলিম প্রধানের গুলশানের বাসায় ক্যাসিনো খেলতেন।  সেলিম প্রধান ধরা পড়ে কারাগারে গেলেও অনেকেই কৌশলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এদের মধ্যে পাপিয়া ও সুমন চৌধুরী অন্যতম।

সুমনের পিএস সাব্বির আহমেদ ও পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবা র‍্যাবকে জানিয়েছে, ক্যাসিনোর টাকা দিয়েই ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের একটি বাসায় ২০১৮ সালে একটি ও ২০১৯ সালে আরেকটি ফ্ল্যাট কেনেন। ফার্মগেট, ২৮ ইন্দিরা রোডের একেকটি ফ্লাটের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। আর একেকটি ফ্ল্যাটে ডেকোরেশন করেছেন অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা দিয়ে। ফ্ল্যাটে রয়েছে দামি খাট-পালঙ্ক, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র।

র‍্যাবের অপারেশনে ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে যখন পাপিয়া, তার স্বামী সুমন চৌধুরী, সহকারী সাব্বির আহমেদ ও শেখ তায়্যিবাকে আটক করা হচ্ছিল তখন তারা যেভাবে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছিল, তাতে র্যাব সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যায়। তাদের প্রথমে বুঝিয়ে বহির্গমন পথ আটকানো হয়। এ সময় পাপিয়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে ফোন করার জন্য মোবাইল বের করেন। তবে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ কেউ তার ফোন ধরেননি। এমনকি কয়েকজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যকেও ফোন করেন পাপিয়া। তাতেও কাজ হয়নি। আদৌ ওইসব ব্যক্তি তার ফোন ধরেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে জানায় র্যাব।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আটকের পর প্রথম দিন পাপিয়াসহ অন্যরা কোনো তথ্যই দিচ্ছিল না। আবার নারী হওয়ায় কোনো উপায়ও পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সময় নিয়ে কৌশল অবলম্বন করে তাদের আলাদা করে পাপিয়ার কাছ থেকে কিছু তথ্য বের করা হয়। পাপিয়া সব সময়ই আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। র‍্যাব সদস্যরা কোনোভাবেই তার কথায় বিচলিত হয়নি। তার এত ক্ষমতার উৎস কোথায় র‍্যাবকে সেটাও বলেননি পাপিয়া।

র‍্যাব সূত্র জানায়, পাপিয়া-সুমন দম্পতির অপকর্মের সঙ্গে আর কারা জড়িত সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যতবড় ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা পায়নি র্যাব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ছবি যে কেউ তুলতে পারে। সেই ছবি যদি কেউ ব্যবহার করে টাকা উপার্জন করে তবে তা হবে প্রতারণা। আর সেই প্রতারণার দায় তাকেই নিতে হয়। পাপিয়ার বেলাতেও তাই হবে। অপরাধের সঙ্গে ছবির ব্যক্তি কখনো জড়িত হয় না। র্যাব এমন কোনো তথ্য খুঁজে পায়নি। আর যারা না বুঝে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ যে কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

গত শনিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ওইদিন রাতেই নরসিংদীর বাসায় এবং রোববার ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল সুটে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে অবস্থিত রওশন’স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করে র্যাব। রোববার দল থেকে পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

গত সোমবার জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনকে তিন মামলায় মোট ১৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া অপর দুই আসামি সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে বিমানবন্দর থানার মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলো— পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads