• শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
ads
১৫৯৬ কোটি টাকার হদিস মিলছে না

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

১৫৯৬ কোটি টাকার হদিস মিলছে না

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই টাকা কোথায় গেছে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে আপিল বিভাগকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে হাজির হয়ে লিখিত আকারের মতো তুলে ধরেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম।  বাংলাদেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার পাশাপাশি একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা নিয়ে অভিমত দিতে ইব্রাহিম খালেদ এবং একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তাকে হাজির হতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের বাস্তবিক পক্ষে অর্থনৈতিক অবস্থা কী রকম আছে, অবসায়ন হওয়ার মতো অবস্থায় আছে কি না, আর্থিক অনিয়ম হলে কোন পর্যায়ে আছে, অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী গতকাল তারা আদালতে তাদের মতামত দেন।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তার অভিমতে বলেন, আমানতকারীরা টাকা পাবেন, তাদের টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পি কে হালদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ১৫৯৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এই টাকা কোথায় গেছে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে, পিপলস লিজিংকে অবসায়ন করা হয়েছে। এখন যদি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকেও অবসায়ন করা হয় তাহলে এ সেক্টরে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। এখান থেকে ইন্টারন্যাশনালকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে কি না তা এখন বলা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অনিয়মের বিষয় যখন জানতে পেরেছি তখনই দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এ বিষয়ে একটা প্রতিবেদন দিয়েছে। পুরো প্রতিবেদন এখনো দেয়নি। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাকে সুযোগ দেওয়া হলে তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে পুনর্গঠন করতে পারবেন।

আদালতে ইন্টারনাশনাল লিজিংয়ের পরিচালকদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষে তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অবসায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন।

গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করতে বলা হয়। পাশাপাশি ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। প্রশান্ত কুমার হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads