• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭
লালুর পেটে ৩ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

লালুর পেটে ৩ কোটি টাকা

  • ইমরান আলী
  • প্রকাশিত ০১ অক্টোবর ২০২০

চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে প্রায় ৩ কোটি আত্মসাৎ করে অবশেষে সিআইডির হাতে ধরা পড়েছেন প্রতারক আমিনুর ইসলাম লালু। বিমানবন্দরের এয়ার কার্গোসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন এই লালু। বিশেষ করে ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলে লোকজনের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।

দক্ষিণখান থানায় দায়ের করা ভুক্তভোগীর এক মামলায় সিআইডি পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে রাজধানীর বসুন্ধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

লালুকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৭৩টি ইসলামী ব্যাংক লি.-এর ডেবিট কার্ড, নর্থ বেঙ্গল আউট সোর্সিং লিমিটেডের ইস্যু করা বিভিন্ন কর্মচারীর নামে ৯০টি আইডি কার্ড, একটি কম্পিউটার সিপিইউ, একটি প্রিন্টার, লালুর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সাতটি ব্যাংকের চেক বই, দুটি পাসপোর্ট, নর্থ বেঙ্গল আউটসোর্সিং লি.-এর ফর্মে বিভিন্ন পদের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের আবেদপত্র ৮৪টি, লালুর নিজের তিনটি এটিএম কার্ড, এনবিজি এয়ার কার্গো লিমিটেডের প্যাডে আসামি আমিনুর ইসলাম লালু স্বাক্ষরিত পুলিশ তদন্ত রিপোর্টে অতিরিক্ত আইজিপি স্পেশাল ব্রাঞ্চ মালিবাগ, ঢাকা বরাবর প্রেরিত আবেদনপত্র ১১টি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  লালু একের পর এক ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলেছেন। কোম্পানির মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার কার্গো বিভাগে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি বাবদ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নিয়েছেন প্রায় তিন কোটি টাকা। 

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিসানুল হক জানান, লালু কয়েকটি ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলে সেসব কোম্পানির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চাকরি দেওয়ার জন্য চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- এনবিজি এয়ার কার্গো লিমিটেড, নর্থ বেঙ্গল আউটসোর্সিং লিমিটেড, বগুড়া ডেভেলপার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, বগুড়া ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, মেসার্স হযরত শাহ্ আলী বোগদাদী (রা.) এন্টারপ্রাইজ, নর্থ বেঙ্গল বাজার বিডি লিমিটেড, মেসার্স নুরে মুজেসসুম করপোরেশন, এনবিও সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড ও মেসার্স গরিবে নেওয়াজ এন্টারপ্রাইজ।

সিআইডি কর্মকর্তা জিসানুল হক জানান, লালু এসব কোম্পানি খুলে এখান থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এয়ার কার্গো বিভাগের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় দুই শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভিকটিম পার্থ পালকে (মামলার বাদী) পিয়ন পদে চাকরি দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা নেন।

এছাড়া ভিকটিম অজয় রায় ও অনুতম বর্মণ থেকে সুপারভাইজার পদের জন্য দুই লাখ ১৫ হাজার, লোডার পদের জন্য পলাশ চন্দ্র থেকে এক লাখ ৫০ হাজার, প্রিয় রঞ্জনেরর কাছ থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদের জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার, নাঈম রানা ও পবিত্র পালের কাছ থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে সিআইডির সহায়তা চান। এরই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে আমিনুর ইসলাম লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে লালুর গ্রেপ্তারের সংবাদ পেয়ে ৫০-৬০ জন ভুক্তভোগী সিআইডি অফিসে হাজির হন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে তাদের এয়ার কার্গোতে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল। তারা চাকরি বাবদ দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির কথা বললে তিনি কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলেও নানা টালবাহনা করেন।

তারেক নামের এক ভুক্তভোগী জানান, এয়ার কার্গোর সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার জন্য তার নিকট আড়াই লাখ টাকা দিয়েছেন। আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে তাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লালু। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি তিনি। তারেকের মতো অনেক ভুক্তভোগী লালুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা জানান।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার লালুকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads