• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads

অর্থনীতি

৯ মিউচুয়াল ফান্ড ঝুঁকিতে

  • প্রকাশিত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

 

সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আটটি মিউচুয়াল ফান্ডের ৪৪ কোটি টাকার বেশি ইকুইটি বিনিয়োগ রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে আরো ৩০ কোটি টাকা ইকুইটি বিনিয়োগ করেছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ইউনিট ফান্ড। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতিতে নজিরবিহীন তারল্য সংকটে পড়ায় ফারমার্স ব্যাংকে বিনিয়োগের এ অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকটিতে ইকুইটি বিনিয়োগ করে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত নয়টি মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ড। শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে প্রিমিয়ামসহ মোট ইকুইটি বিনিয়োগ ছিল ৭০ কোটি টাকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয় ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের মাধ্যমে। ফান্ডটির প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির পর্ষদে পরিচালক হিসেবে ছিলেন রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত। তবে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের প্রতিবেদনে ফারমার্স ব্যাংকে ফান্ডটির বিনিয়োগ স্থিতি শূন্য দেখানো হয়েছে। অথচ ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে তামিম মারজান হুদা ব্যাংকটির পর্ষদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

 

এটি বাদ দিলেও ফারমার্স ব্যাংকে রেস পরিচালিত আটটি ফান্ডের বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানে ৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ফারমার্স ব্যাংকে ইকুইটি বিনিয়োগ রয়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ কোটি ৩৮ লাখ, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ২ কোটি ৫৫ লাখ, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৪ কোটি ৪৭ লাখ, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ কোটি ৭৫ লাখ, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ২ কোটি ৫৫ লাখ, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের ৬ কোটি ৩৮ লাখ ও এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

 

ফারমার্স ব্যাংকের বিনিয়োগে মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিটহোল্ডারদের কোনো কাজে না এলেও এর মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত ও প্রধান নির্বাহী হাসান তাহের ইমাম লাভবান হয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুজনেই ব্যাংকটির পর্ষদে ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ব্যাংকটির পর্ষদে স্থান পাওয়ার জন্যই রেসের চেয়ারম্যান ও সিইও ইউনিটহোল্ডারদের অর্থে ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। অথচ ব্যাংকটির বেহালের কারণে ফান্ডগুলোর বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া না গেলে শেষ পর্যন্ত ইউনিটহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

 

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তাহের ইমামের সেলফোনে একাধিকবার কল করে ও এসএমএস পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি।

 

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বাইরে মূলধন সংকটে থাকা ফারমার্স ব্যাংকে আইসিবি এএমসিএল পরিচালিত আইসিবি ইউনিট ফান্ডের ইকুইটি বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিও ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকটিতে।

 

ফারমার্স ব্যাংকের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ বিনিয়োগের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ইকুইটি বিনিয়োগ হওয়ায় এর বিপরীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা জামানত রাখার সুযোগ ছিল না। তবে ব্যাংকটিতে আইসিবি ছাড়াও আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে। তাই কোনো কারণে যদি ব্যাংকের পক্ষে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নিতে হবে।

 

সূত্রঃ বণিক বার্তা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads