• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

সংগৃহীত

অর্থনীতি

চাপে বিকাশ ও রকেট

নজরদারিতে ৮০ হাজার এজেন্ট

‘ডিজিটাল হুন্ডি’

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১০ এপ্রিল ২০১৮

‘ডিজিটাল হুন্ডি’র তথ্যপ্রমাণ থাকায় ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ ও ডাচ-বাংলার রকেট কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কয়েক মাস ধরে তাদের প্রায় ৮০ হাজার এজেন্টের ওপর এই নজরদারি করছে। এতে চাপে পড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান দুটি।

২০১০ সালে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর পর ২০১১ সালে বিশদ নীতিমালা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি নির্দেশনার ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করে দেয় ব্র্যাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এ পর্যন্ত ২৯টি ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে ১৮টি কার্যক্রম শুরু করেছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বিকাশ। মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হয় বিকাশে।

অভিযোগ আছে, বিকাশ ব্যবহার করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে থাকা সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠাচ্ছে অবৈধভাবে। ডিজিটাল হুন্ডি হিসেবে পরিচিত এই মাধ্যমে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭ এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল করে বিএফআইইউ। একই অভিযোগে ওইসব এজেন্টের নেওয়া অন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১ হাজার ৮৬৩টি হিসাব বন্ধ করা হয়; যার অর্ধেকই রকেটের।

এসব লাইসেন্স বাতিলের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদিরকে ডেকে কয়েক দফা সতর্ক করে। অবৈধ হুন্ডি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে। তবে কার্যত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেসব নির্দেশনা পরিপালন করেনি বিকাশ কর্তৃপক্ষ। ফলে পাঁচ বছর ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় কমেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে প্রবাসী আয় কমেছে সেটা বলা যাবে না। প্রবাসী আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে না এসে ভিন্নভাবে আসছে।

জানা যায়, জানুয়ারি মাসে বিকাশের সক্রিয় আট এজেন্টকে আটক করে সিআইডি। ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ময়মনসিংহ থেকে আটক এসব এজেন্ট জিজ্ঞাসাবাদে হুন্ডির সংঘবন্ধ চক্রে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।

বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সোমবার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিকাশ ও রকেটসহ বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ হাজার এজেন্টের লাইসেন্স সেপ্টেম্বরে বাতিল করায় সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ছয় মাসে আমরা নজরদারি করে যেসব তথ্য পেয়েছি তা আরো ভয়ঙ্কর। দেখা গেছে, বিকাশ ও রকেটের প্রায় ৮০ হাজার এজেন্টের বেনামি হিসাব রয়েছে, যারা প্রায় ৫ লাখ হিসাব পরিচালনা করছে। এসব এজেন্টকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 

এদিকে অর্থ পাচারে সম্পৃক্ততার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিকাশ ও রকেটের কাছে সম্প্রতি তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আছে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচার ও হুন্ডির সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করলে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদির বাংলাদেশের খবরকে বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে দুদক যেকোনো তথ্য-উপাত্ত চাইতেই পারে। আমরা নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ব্যবসা করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালন করা হচ্ছে। এজেন্টদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রতিমুহূর্তে লেনদেন তদারকি করছি। তারপরও দুদকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রক্রিয়ার লেনদেনও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। তাই এবারের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে এজেন্টদের আরো নজরদারিতে আনার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, শুধু বিকাশ নয়, যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হুন্ডির বিষয়টি আমাদের জন্য উদ্বেগের। আমরা এরই মধ্যে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নজরদারিতে এনেছি। পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, শিগগিরই বিকাশের অপব্যবহার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads