• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads

ছবি : সংগৃহীত

অর্থ ও বাণিজ্য

সাতক্ষীরায় কাঁচা আমের দাম দ্বিগুণ

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ এপ্রিল ২০১৮

সাতক্ষীরার বড় বাজারে জমে উঠেছে আম বেচাকেনা। অন্য বছরের তুলনায় এবার কাঁচা আমের দাম দ্বিগুণ। বছর ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় প্রতিমণ আম বিক্রি হয়। এবার তা ১০০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে আমচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কদর বাড়ায় এখানকার আম সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। প্রতিকেজি কাঁচা আম বিক্রি করে কৃষকরা পাচ্ছেন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৬০ টাকা। আমের সাইজ বড় ও দেখতে সুন্দর হলে কেজি ৮০ টাকার উপরে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা গ্রামের আমচাষিদের কাছ থেকে কম দামে সংগ্রহ করে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন সাতক্ষীরায় ৩-৪ ট্রাক কাঁচা আম কেনাবেচা হচ্ছে। যার বাজারদর ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পাকা আম বাজারে উঠতে শুরু করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও জেলা থেকে প্রায় ১০০০ টন আম বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে। বছর যার পরিমাণ ছিল ৭০০ টন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি বছর চার হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৯৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬০২ হেক্টর, তালায় ৭০৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৬৮ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮০৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১২৫ হেক্টর ও শ্যামনগরে ১৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এদিকে সাতক্ষীরা সদরে আমের বাগান রয়েছে ১৫৩০টি, কলারোয়ায় ১৩১০টি, তালায় ১৪৫০টি, দেবহাটায় ৪৭৫টি, কালিগঞ্জে ১৪২টি, আশাশুনিতে ১৯০টি ও শ্যামনগরে ১৫০টি।

সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় অন্য অঞ্চলে উৎপাদিত আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম বাজারে ওঠে সবার আগে। সাতক্ষীরায় গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, ক্ষিরসরাইসহ নানা জাতের আম এখন বাজারে।

তাজুল ইসলাম নামে কাঁচা আমের এক পাইকারি ব্যবসায়ী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আম কিনতে সাতক্ষীরার বড় বাজারে এসেছেন। তিনি ৩২ ঝুড়ি আম কিনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। প্রতি ঝুড়িতে আম ধরে ১০০ থেকে ১২০ কেজি। সেই হিসাবে তিনি সাতক্ষীরার বড় বাজার থেকে প্রায় ১০০ মণ কাঁচা আম কিনেছেন। মুজাহেদ ঢাকার বাইপাইল থেকে এসেছেন। তিনিও বিপুল পরিমাণ কাঁচা আম কিনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

তিন হাত বদলের পর সাতক্ষীরার আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রথমে গ্রাম থেকে আম বাগান কেনেন একশ্রেণির গ্রাম্য ব্যবসায়ী। গ্রাম্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আম কেনেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এরপর সেই আম বাজারের আড়ত থেকে ক্রয় করেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। এভাবে হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে দামও পরিবর্তন হয়। একজন আমচাষির কাছ থেকে ক্রয় করে সেই আম ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে মূল্য বাড়ে তিন থেকে চারগুণ। সরকারিভাবে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি আম ক্রয় করতে পারলে ভোক্তা ও চাষিরা উভয়েই লাভবান হতেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচারক কৃষিবিদ কাজী আবদুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার আম গুণে-মানে সুস্বাদু। অন্যান্য জেলা থেকে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। এ জেলার মাটি আম চাষের উপযোগী। চার বছর ধরে এ জেলার আম ইউরোপে রফতানি হচ্ছে। এবারো বাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে বিদেশে আম পাঠানোর জন্য।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন জানান, সাতক্ষীরার আম সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে। সুনাম ক্ষুণ্ন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করে আম পাকাতে কেউ ফরমালিনের আশ্রয় নিলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করা হবে। সঙ্গে থাকবে জরিমানার ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads