• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য পূরণ হয়নি

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

সংরক্ষিত ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

২০১৭-১৮ অর্থবছর

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য পূরণ হয়নি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ জুলাই ২০১৮

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। গত অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং কৃষিতে সন্তোষজনক উৎপাদন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে অর্থবছর শেষে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, গত অর্থবছর গড়ে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। আগের অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে আগের মাসের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশে। তার আগের মাসে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ সময় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ৬ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি, ডাল ও তেলের দাম কমছে। চালের দামে বৃদ্ধি ও হ্রাসের মিশ্র প্রবণতা রয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। মন্ত্রী জানান, এবার দেশে ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চালের প্রচুর মজুত আছে। অর্থবছরের শুরুতে বেড়ে গেলেও সবকিছু মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি কমে আসছে। সমাপ্ত অর্থবছরে বাড়তি মূল্যস্ফীতি হলেও তা অসহনীয় নয় বলে মনে করেন তিনি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুন ও তার আগের মে মাসে একই রয়েছে। এর হার ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। অপরদিকে বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি। অন্যদিকে জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

প্রতি মাসেই শহর ও পল্লী অঞ্চলের জন্য খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন তৈরি করে বিবিএস। এক বছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো এক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় ১০০ টাকায় ৫ টাকা ৭৮ পয়সা বাড়বে। চলতি বছর ১০০ টাকায় যে পণ্য পাওয়া যায় তা কিনতে এক বছর পর ১০৫ টাকা ৭৮ পয়সা লাগছে। আয় না বাড়লে এই পরিমাণ মূল্যের পণ্য কম কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

প্রসঙ্গত, নতুন অর্থবছরের জন্য ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads