• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
অর্থ পাচার আইন বাস্তবায়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ!

অর্থ পাচার আইন

প্রতীকী ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থ পাচার আইন বাস্তবায়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ!

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৪ জুলাই ২০১৮

গোপনে অর্থ আমানতের তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় দেড় বছরে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের আমানত কমেছে। ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে ৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার আমানত কমে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকায়। এর আগের কয়েক বছরে সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের এ হার বাড়ছিল। হঠাৎ করে অর্থ পাচার কমার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুইস ব্যাংকগুলোর গোপনীয়তা কমে যাওয়ার কারণে পাচারকারীরা অন্যত্র অর্থ নিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ আইন ও বিধি প্রণয়নে এগিয়ে আছে। তবে বাস্তবায়ন দুর্বলতায় ঠেকানো যাচ্ছে না অর্থ পাচার। তাছাড়া অর্থ পাচারকারীরা বেছে নিচ্ছেন অভিনব কৌশল। পাচারের বড় অর্থ যাচ্ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আর মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নাম করে। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ডেকেছে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ-বিএফআইইউ। ব্যাংকগুলো অর্থ পাচার রোধে কীভাবে আরো শক্ত ভূমিকা রাখতে পারবে সেই নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন ও বিধি পরিপালনে যেসব ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে তাদেরকে সতর্ক করা হবে। মূলত সুশাসন ইস্যুটি এখানে অগ্রাধিকার পাবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বিভাগের প্রধান ও উপ-প্রধানদের ডাকা হয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে। সেখানে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএফআইইউর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আইনের পরিপালন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোতে তাগিদ দেব। তাছাড়া ব্যাংকগুলো যেহেতু গ্রাহকের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করছে, তাই তাদের কাছ থেকে অর্থ পাচার রোধে সুপারিশ নেওয়া হবে। সেগুলো ধরে পরে বিএফআইইউ কাজ করবে।

সরকার অর্থ পাচার ঠেকাতে ২০০২ সালে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন করে। এরপর আইনটি ২০০৮, ২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৫ সালে চারবার সংশোধন হয়েছে। ২০১২ সালের সংশোধনীর আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পন্ন করতে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটটি একটি পৃথক কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যালোচনা মতে, বাংলাদেশ অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানে সন্তোষজনক অগ্রগতি করেছে। তবে আইনের বাস্তবায়নে অনেকটা পিছিয়ে। জাতিসংঘের শর্ত মোতাবেক আইন ও বিধি-বিধান সংক্রান্ত ৪০টি শর্ত পরিপালন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১২টি পুরোপুরি, ২২টি বাস্তবায়নের পথে এবং ৬টি আংশিক বাস্তবায়ন করেছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু আইনের পরিপালন মূল্যায়ন করে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ শর্তের চারটিতে বাংলাদেশ নিম্ন অবস্থানে রয়েছে। চারটিতে মোটামুটি অগ্রগতি করলেও বাকি তিনটিতে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ ১১ শর্তের কোনোটিতে উচ্চ অবস্থানে যাওয়া সম্ভব হয়নি এখনো।

এদিকে পৃথক কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে গঠন করার ছয় বছর পার হলেও এখনো স্বতন্ত্র চরিত্র পায়নি বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ-বিএফআইইউ। কেন্দ্রীয় এই আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কোনো লেটার হেড প্যাড, লোগো হয়নি। প্রতিষ্ঠার সাত বছরে অর্থ পাচারের কোনো ঘটনা তদন্তে সাফল্যও দেখাতে পারেনি কেন্দ্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা। বর্তমানে ১৭টি রিপোর্টিং সংস্থা বিএফআইইউর সঙ্গে কাজ করছে।

সরকারি সূত্র মতে, বর্তমানে অর্থ পাচারের ঘটনায় ৩১টি মামলা চলছে। তবে পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস ও অফশোর লিকসসহ বিভিন্ন রিপোর্টে ৮৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচারের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে এসব তথ্য বেরিয়ে এলেও প্রকৃত অর্থে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না তা অনুসন্ধান করে বের করতে পারেনি বিএফআইইউ। তবে সবশেষ দুদক পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে থাকা সাত ব্যক্তিকে তলব করেছে। এর মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক ছাড়া বাকিরা ব্যবসায়ী। তাদের আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads