• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
সামুদ্রিক মাছ আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ

প্রতিবছর সামুদ্রিক মাছ আহরণের হার কমে আসছে

সংগৃহীত ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

সামুদ্রিক মাছ আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ

দুই হাজার কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৮

জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান কমে এলেও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে মৎস্য খাতের অবদান। সবশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মাছ চাষ ও আহরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। যদিও গত বছর ফসল উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এক বছরে দেশের জলাশয়, নদী ও সমুদ্র থেকে আহরণ করা মাছের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৭৯ কোটি টাকায়। গত অর্থবছর একক পণ্য হিসেবে মাছ রফতানি করে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে। মাছ চাষে বড় ধরনের সাফল্য এলেও হতাশা আছে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে। দেশে মোট মাছের মাত্র ১৬ শতাংশ সমুদ্র থেকে আসছে বলে জানিয়েছে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তা ছাড়া প্রতিবছর সামুদ্রিক মাছ আহরণের হার কমে আসছে। এ অবস্থায় মাছ আহরণ টেকসই করতে বড় ধরনের প্রকল্প নিচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের উপকূল ও সমুদ্রে টেকসই মৎস্য আহরণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অধিদফতর। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ২২ লাখ ডলার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তার অনুসন্ধান করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি দাতা দেশ ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে ইআরডি। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে এ প্রকল্পে ২৪ কোটি ডলার সহায়তার প্রাথমিক আশ্বাস পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটিতে অর্থায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের প্রাণিজ সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে মৎস্য উপখাতে। কৃষি খাতের নেতৃত্বে রয়েছে মাছ আহরণ। জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৪ শতাংশ। এ খাতে এক কোটি ৮২ লাখ মানুষ কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারী। কর্মে নিয়োজিত জনশক্তির প্রায় ১১ শতাংশ মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে গত শতকের শেষের দিকে সমুদ্র থেকে অপরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়েছে। এর আগেই এ খাতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্ভব হওয়ায় সনাতন মাছচাষিরা শ্রমিকে পরিণত হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এ খাতটি পুঁজিপতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সমুদ্র থেকে মাছ আহরণে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রণয়ন করা হবে। সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ ও চাষের অনুপাতে ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে। তা ছাড়া অপরিকল্পিত মাছ চাষ থেকে বিরত রাখতে পেশাদার জেলেদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে প্রকল্পের আওতায়।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে চার কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে টেকসই মাছ আহরণ ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে। এর আওতায় উপকূল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো হবে। এ খাতে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এ অর্থ ব্যয় করে মাছ আহরণের পরিবেশ ধরে রাখা, নিরাপত্তা বাড়াতে বিনিয়োগ করা হবে। অর্থ ব্যয় করা হবে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নেও।

প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ১২ কোটি ৩২ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে অবকাঠামো উন্নয়নে। তা ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ কোটি ২০ লাখ ডলারের বরাদ্দ রাখা হবে প্রকল্পটিতে।

এতে আরো বলা হয়েছে, দেশের মোট মাছ সংগ্রহের ৫৬ শতাংশ আসছে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষের মাধ্যমে। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আসছে মোট মাছের ২৮ শতাংশ। আর সমুদ্র থেকে আসছে মাত্র ১৬ শতাংশ। চাষের মাধ্যমে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আর উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ শিকারে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে আছে। অথচ বাংলাদেশের সমুদ্র থেকে বার্ষিক মাছ আহরণের পরিমাণ মাত্র ছয় লাখ টন। উৎপাদনশীলতা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় উন্নীত করা গেলে মাছ আহরণ কয়েক গুণ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে ধারণাপত্রে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads