• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
গ্যাস সংযোগ পেলেও উৎপাদন সঙ্কটে সার কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও বাণিজ্য

গ্যাস সংযোগ পেলেও উৎপাদন সঙ্কটে সার কারখানা

  • কাওসার আলম
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অনেক কাঠগড় পুড়িয়ে গ্যাস সংযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন ৬টি ইউরিয়া সার কারখানা। কিন্তু গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও কারিগরি ত্রুটি, কেমিক্যাল সঙ্কট এবং গ্যাসে প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না কারখানাগুলো। এর মধ্যে ২টি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বাকি ৪টি কারখানার মধ্যে পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে একমাত্র চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। ফলে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও কারখানাগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বিসিআইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধন করে কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারবে।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, মিথেল ডাই-ইথানলেমাইন নামে রাসায়নিক তরলটির যে পরিমাণ ঘনমাত্রা থাকার কথা, তার চেয়ে কম হওয়ার কারণে শাহজালাল ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন হচ্ছে না। এ কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লাখ ৮০ হাজার টন। এ হিসাবে দৈনিক উৎপাদক্ষমতা হচ্ছে ১ হাজার ৫৯০ টন। কিন্তু এখন তা ১ হাজার ৪০০ টনে নেমে এসেছে। এ হিসাবে প্রতিদিন ১৯০ টন সার কম উৎপাদন হচ্ছে। অপরদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ ও ১৪ সেপ্টেম্বর ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও উৎপাদন বন্ধই রয়েছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানা কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। গত বছরের এপ্রিলে বিচ্ছিন্ন করার পর পলাশ কারখানায়ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। অবশেষে গত সোমবার থেকে কারখানাটির উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনসক্ষমতার মাত্র অর্ধেক সার উৎপাদন হচ্ছে। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ২৬০ টনের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩৫ টন। অপরদিকে যমুনা সার কারখানাটি ৮০ শতাংশ লোডে উৎপাদন করছে।

কারখানাগুলোর উৎপাদনের এমন পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মোহাম্মদ শাহিন কামাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, শাহজালাল সার কারখানায় মিথেল ডাই-ইথানলেমাইনের যে সঙ্কট তা আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিটে যাবে। বিদেশ থেকে এটি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানার কারিগরি ত্রুটি সারাতেও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি। এই ত্রুটি সারানোর পর কারখানাটি উৎপাদনে যাবে। অপরদিকে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চাপের জন্য তিতাস গ্যাস কোম্পানি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সহসাই এ কোম্পানিটির উৎপাদন শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা। যমুনা সার কারখানায় ৮০ শতাংশ লোডে উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীন কামাল বলেন, এ কারখানাটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে, তাতে কম চাপেও উৎপাদন করা যায়।

প্রসঙ্গত বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখছে সরকার। এতে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়ে বিসিআইসি। উৎপাদন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া আমদানি করে সারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে নানা ধরনের বিপাকে পড়তে হয় তাদের। উপরন্তু দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো নানা ধরনের যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়ছে। কারখানার অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো বা বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতা ক্রমেই কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সার কারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য পেট্রোবাংলাসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে জোর তৎপরতা চালায় বিসিআইসি। অবশেষে গত ১৮ আগস্ট দেশে আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ শুরু হলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সংযোগ প্রদান শুরু করে পেট্রোবাংলা। ৮ মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্যান্য কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, ৬টি ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদনসক্ষমতা ২৬ লাখ ৬৫ হাজার টন হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৯ থেকে ১০ লাখ টনে নেমে আসে। বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদার পরিমাণ ২৫ লাখ টনের মতো। ফলে চাহিদার বড় অংশই আমদানি করে মেটাতে হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে সার আমদানি করে চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলে বিসিআইসির সার কারখানাগুলো দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে বিসিআইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads