• মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৪
ads
বিদেশি ঋণ বাড়লেও কমছে বিনিয়োগ

বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

বিশ্বব্যাংকের ঋণ পরিসংখ্যান-২০১৯

বিদেশি ঋণ বাড়লেও কমছে বিনিয়োগ

# এক বছরে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২২ শতাংশ # এফডিআই পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০১৮

২০০৯ সাল থেকে মাত্র আট বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তা বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ। আর ২০১৬ সাল থেকে এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি সহায়তার স্থিতি বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে এ সময়ে উল্টোপথে হেঁটেছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। ২০১৭ সালে এফডিআই ছিল পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৯ সালে দেশে যেখানে বিদেশি সহায়তা বাবদ আসে ১৯৩ কোটি মার্কিন ডলার সেখানে গত বছর (২০১৭ সাল) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি ডলারে। আর ২০১৬ সাল থেকে এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। ওই এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে বিদেশি সহায়তার স্থিতিও। এই স্থিতি ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার থাকলেও ২০১৭ সালে তা হয়েছে ৪ হাজার ৭১৫ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে বিশ্বব্যাপী ১২১ দেশে বিদেশি সহায়তার স্থিতি ১০ শতাংশ বাড়লেও বাংলাদেশে তা বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক ঋণ পরিসংখ্যান-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে এফডিআই এসেছে ১৮১ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর আগের বছর এফডিআই বাবদ এসেছিল ২১২ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এক বছরে এফডিআই কমেছে ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। শতকরা হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, অবকাঠামোর স্বল্পতা থাকায় বাংলাদেশে এ খাতে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর বিদেশি সহায়তার বড় অংশই আসছে অবকাঠামো খাতে। রফতানি আয় ও মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বাংলাদেশে আরো বিদেশি সহায়তা আসার সুযোগ আছে। তবে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকলে এফডিআই আহরণ সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে বড় প্রকল্পগুলো এখনো চলমান। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিনিয়োগের পাশাপাশি এফডিআই বাড়বে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নতি করতে হবে। তা ছাড়া জমির নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণেও এফডিআই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নীতি সহায়তার উন্নয়নে নেওয়া অনেক উদ্যোগও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে দাবি করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল এখনো আলোচনায়। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের আইন হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বিদেশি ঋণের ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গত বছরই উঠেছে ৭ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে। ২০১৬ সালের তুলনায় এক বছরে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে সহায়তার স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশে এক বছরে স্থিতি বেড়েছে ২২ ভাগ।

এতে আরো বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মোট ৬০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সহায়তা এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এসব দেশে বিদেশি সহায়তা বেড়েছে ১৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। ২০১৩ সালের পর গত বছরে বিদেশি সহায়তা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ১২১ দেশ বিদেশি সহায়তার স্থিতি জিএনআই’র ২৫ শতাংশ হারে সহায়তা আহরণ করছে। বাংলাদেশে এর হার আট বছরে ২৩ শতাংশ থেকে কমে ঠেকেছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ২১ ভাগ দেশে এর হার ৬০ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিদেশি সহায়তা বেড়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকা দেশগুলোতে। এসব দেশে গত বছর বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে এক বছরে নাইজেরিয়ায় ২৯ শতাংশ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ২১ শতাংশ বেড়েছে বিদেশি সহায়তার স্থিতি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার স্থিতি সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

শুধু আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন দেশগুলোর কয়েকটিতে বিদেশি সহায়তা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এমন ৬৫ দেশের মোট বিদেশি সহায়তা জমা পড়েছে ১২ দেশে। আইডিএ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার স্থিতি ৪ হাজার ৭২০ কোটি ডলার। এ ছাড়া ইথিওপিয়ায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, ঘানায় ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার ও সুদানে ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ রয়েছে।

ঋণ আর অনুদান বাবদ অর্থ ছাড়ের তুলনায় গত বছর বন্ড বাবদ অর্থ ছাড়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে কয়েক গুণ। বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে ইস্যু করা ও সরকারের গ্যারান্টি দেওয়া বন্ড বাবদ অর্থ আহরণ গত বছর বেড়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। মধ্যমেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে গত বছর বিভিন্ন দেশ সংগ্রহ করেছে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০০৯ সালে এফডিআই বাবদ এসেছিল ৫৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। গত বছর তা দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি ৮২ লাখ ডলারে। আট বছরে তিনগুণে উন্নীত হলেও তা কমতির ধারাবাহিকতায় আছে কয়েক বছর ধরে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এফডিআই হিসেবে আসে ১৯৩ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এর পরের তিন বছর ২০০ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছে। গত বছর তা ২০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads