• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
আইনি কাঠামোতে আসছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

ছবি : সংগৃহীত

অর্থ ও বাণিজ্য

আইনি কাঠামোতে আসছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

# নির্দিষ্ট নীতিমালায় আসবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ # বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনতে এই উদ্যোগ # উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে বলে ধারণা

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৯

দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। অর্থনীতির চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্তরে আটকে আছে। টাকার অঙ্কে বাড়লেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে বাড়ছে না। সরকারের নানা উদ্যোগেও খুব বেশি সুফল আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করছে। শিগগিরই এটি পাঠানো হবে উচ্চপর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন আইনের আওতায় এক ছাতার নিচে আসবে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। 

সূত্রগুলো বলছে, দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ছুঁয়েছে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি প্রশ্নের মুখে পড়েছে কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে। কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের গড়ে নিতে আট সূচকে সরকারের নজর দরকার। এই আটটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে। ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের কাতারে উঠে আসবে। এসব বিবেচনায় সমন্বিত বিনিয়োগ পলিসি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন বাড়ছে বিনিয়োগ, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিনিয়োগের জন্য হয়ে উঠেছে অন্যতম নিরাপদ স্থান। গত বছর সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ৬৮ শতাংশ বৃিদ্ধ পেয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। বিনিয়োগের এই ধারাকে আরো যুগোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমন্বিত বিনিয়োগ পলিসি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে বিডা, যা বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, পরবর্তী বোর্ড সভায় চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এই বিনিয়োগ পলিসির মাধ্যমে সব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয় একটি নির্দিষ্ট আইনগত কাঠামোর ভেতরে চলে আসবে। ফলে সহজেই বিনিয়োগ কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে কিছু কিছু আইন বিনিয়োগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। বিনিয়োগবান্ধব ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য স্বতন্ত্র সমন্বিত বিনিয়োগ আইনের বিকল্প নেই। 

জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার এক মতবিনিময় সভায়, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম সমন্বিত বিনিয়োগ পলিসির গুরুত্ব তুলে ধরে। সেখানে তিনি বলেন, সমন্বিত বিনিয়োগ পলিসি বাস্তবায়িত বা আইনে পরিণত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে আসবে নতুন গতি। সেবা হবে আরো সহজ ও দ্রুত।

নতুন মেয়াদে দায়িত্ব দিয়ে সরকার বেসরকারি খাতকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে গতিশীল করতে চায়। এজন্য যা যা করা দরকার সব করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন।

গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো দেশে শিল্পমেলার আয়োজন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এই বড় আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমরা তো বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বেসরকারি খাতকে আমাদের সংবিধানেই স্বীকৃতি দেওয়া আছে। আমি সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতটা সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা সার্বিক হিসাবে আছে দেশে ৭৮ লাখের মতো শিল্প-কারখানা বেসরকারি খাতে আছে। প্রতিবছর সেখানে যদি একটা মানুষ কাজের সুযোগ পায় তাহলে ৭৮ লাখ লোক তো কাজ পেল।

সরকার মনে করছে, দেশ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে পিছিয়ে থাকবে কেন। এ ক্ষেত্রে কবে, কতটা এগিয়ে যাওয়া যায়, তা সরকারেরই আকুতি। তাই বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডাকে দেখাশোনা করার জন্য সালমান এফ রহমানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক একটি দেশের ব্যবসার পরিবেশ কেমন তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রতিবছর ইজ অব ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম অবস্থানে। আগের বছরের চেয়ে উন্নতি হয়েছে মাত্র এক ধাপ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ১৬৭তম অবস্থানে চলে গেছে। এ সূচকে ২০০৮ সালেও ১১৫তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এরপর শুধু পিছিয়েছে। তবে চলতি বছরই এই সূচকে বড় উল্লম্ফন চায় সরকার। আর আগামী বছর ৫০তম দেশের কাছাকাছি আসতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, আটটি সুনির্দিষ্ট সূচকে সরকারের মনোযোগ রয়েছে, যা নতুন নীতিমালায় নিয়ে আসা হবে। ব্যবসার পরিবেশ, বিনিয়োগে গতি তৈরি করা মূলধন জোগান, বিদ্যমান অবকাঠামো পরিস্থিতির উন্নতি অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই নগরায়ণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণকে সহায়তা, তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিকে নীতিসহায়তা, ব্যবসার জন্য কর কাঠামো সংস্কার এবং ব্যাংক খাতের উন্নয়ন সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপ।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বেসরকারি খাতের গতি আনতে আমাদের কিছু বিষয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক ও সভা চলছে। আমরা মনে করি চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করলে আমরা অনেক এগিয়ে যাব।

অন্যদিকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। এজন্য আমরা নির্বাচনের আগেই এই সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবস্থান নিয়েছিলাম। আশা করি, সরকারে পদক্ষেপে বেসরকারি খাত আরো গতি পাবে এবং প্রসার লাভ করবে।

অবশ্য সবাই মনে করছেন, বিনিয়োগে নতুন বাধা হিসেবে এসেছে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে চাচ্ছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও সুদ কেন কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বলছেন, ঋণের সুদহার দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads