• বুধবার, ৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

ফাইল ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখছে সিরামিক শিল্প

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পের সামনে বিরাট সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশে উৎপাদিত সিরামিক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। জানা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত সিরামিকের মান অত্যন্ত উন্নত এবং বিশ্ব বাজারে এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সিরামিক শিল্প। সিরামিক শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মাত্র কয়েক দশকের হলেও নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় অভ্যন্তরীণ বাজারের বিস্তৃতির ফলে আমদানি হ্রাস করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করছে এই শিল্পটি। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে এই শিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য বিশ্ব বাজারে সুনাম অর্জন করছে। জানা গেছে, ভুটানের রাজার বিয়ে থেকে শুরু করে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তরেও ব্যবহূত হচ্ছে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য। এভাবে  ইউরোপের প্রায় সব দেশেই রপ্তানি হচ্ছে সিরামিক পণ্য। উদ্যোক্তারা আশা করা করছেন, আগামী কয়েক বছরে সিরামিক রপ্তানি আরো কয়েকগুণ বাড়বে। খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, রপ্তানি সম্ভাবনার কারণেই বাংলাদেশের বড় সিরামিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা সম্প্রসারণ করছে। বিদেশ  থেকে কার্যাদেশ বাড়ায় নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে এ শিল্পে। প্রতিষ্ঠনাগুলো তাদের ইউনিটের সংখ্যা বাড়ার ফলে বাড়ছে কর্মসংস্থান আর সমৃদ্ধ হচ্ছে সিরামিক শিল্প। আগামীতে দেশের শীর্ষ তিন রপ্তানি খাতের মধ্যে জায়গা করে নেবে সিরামিক শিল্প।

সিরামিক এক্সপো-২০১৯

রাজধানীতে ৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৯। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠেয় এ মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশের ১৫০টি ব্র্যান্ড। এ এক্সপোর আয়োজন করছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী দর্শনার্থী ও ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে আকিজ সিরামিক। ওয়েম বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এক্সপোতে একই ছাদের নিচে থাকছে ২০টি দেশের মোট ১২০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫০টি ব্র্যান্ড। এছাড়া অংশ নিচ্ছেন ৩০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ৫০০ বায়ারস হোস্ট।

এগিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনার পথে

বর্তমানে সিরামিক শিল্পের বাজার রয়েছে ৭০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে রপ্তানি হচ্ছে ৩৫০  কোটি টাকা। বাংলাদেশে টেবিল ওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার এই তিন ধরনের সিরামিক পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, এই তিন খাতের মধ্যে তৈজসপত্র খাতে সবচেয়ে বেশি ভালো করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সিরামিক পণ্য প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্যমতে, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশের  বেশি এখন পূরণ করছে  দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে তৈজসপত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ, টাইলসের ৭০ শতাংশ ও স্যানিটারি পণ্যের ৭৮ শতাংশ বাজার বাংলাদেশের দখলে। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের। এ খাতে বিনিয়োগ কমবেশি  সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে মূল্য সংযোজনও, স্থানীয় কাঁচামাল ও সেবার ব্যবহার, তুলনামূলক বেশি। প্রায় ৮৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয় সিরামিকে। প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় এ পণ্যের অবস্থান এখন সপ্তম। বছরে রপ্তানি আয় কম-বেশি পাঁচ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ সিরামিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিসিএমইএ) জানায়, সিরামিক খাতে বর্তমানে ৬২টি প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে তৈজসপত্রের ২০টি, টাইলসের ২৬টি ও স্যানিটারি পণ্য উৎপাদনের ১৬টি কারখানা। তৈজসপত্র উৎপাদনকারী ২৬ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ কোটি পিস। তারাই তৈজসপত্রের দেশীয় চাহিদার ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ পূরণ করে। ২৬টি টাইলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশীয় চাহিদার ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ জোগান দেয়। তাদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১২ কোটি বর্গমিটার টাইলস। স্যানিটারি পণ্যের দেশীয় চাহিদার ৮৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ পূরণ করছে ১৬টি স্যানিটারি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাকিটা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

যাত্রা এবং বিকাশ যেভাবে

সিরামিক ও টাইলস বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পে পরিণত হয়েছে। আশির দশকে দেশের উদ্যোক্তারা সিরামিক পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে আসেন। ২০০০ সালের দিকে এ খাতে মোটামুটি বিপ্লব ঘটে যায় এই শিল্পে। সিরামিক পণ্য উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মুন্নু, শাইনপুকুর, পিপলস, আরএকে, সিবিসি, ফার, স্ট্যান্ডার্ড, বেঙ্গল ফাইন, প্যারাগন, আর্টিসান,  গ্রেটওয়াল, মোনালিসা, ফুওয়াং, চায়না-বাংলা, মধুমতি, এটিআই, সানফ্লাওয়ার, ঢাকা-সাংহাই, মীর, স্ট্যান্ডার্ড, ন্যাশনাল সিরামিক, এক্স সিরামিকস এবং যুবক সিরামিকসহ প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান।  অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে বগুড়ায় তাজমা সিরামিকের মাধ্যমে বাংলাদেশে সিরামিকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় প্রধানত, স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহের জন্য। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ কারখানার নাম পরিবর্তন হয় ‘পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামে। দেশ স্বাধীনের পর চেকোস্লোভাকিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি (বিআইএসএফ)। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যায়। ১৯৮৫ সালে প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে সিরামিক কারখানা স্থাপন করেন মুন্নু সিরামিকের মালিক হারুনার রশীদ খান মুন্নু। এরপর থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দেশের সিরামিক পণ্য ছিল তৈজসপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মূলত নব্বই দশকের শুরুতেই বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পের (তৈজসপত্র) বিকাশ ঘটতে থাকে। এ সময় বেঙ্গল, শাইনপুকুর ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকসহ বেশ কিছু সিরামিক কারখানা গড়ে ওঠে।

বাহারি ও নান্দনিক সিরামিক পণ্য

টাইলস, বেসিন, কমোড, কিচেন ওয়্যার, স্যানেটারি ওয়্যার, টেবিল ওয়্যার, মাটির জার, কলস, ফুলের টব, মটকা, টেবিল ওয়্যার, স্যানেটারি ওয়্যার, গার্ডেন পট, ভেজ, কিচেন ওয়্যার, ডিনার সেট, টি সেট, কফি মগ, প্লেট, বাটি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্র সিরামিক দ্বারা তৈরি করা হচ্ছে। সিরামিকশিল্প  মাটি থেকে প্রস্তুতকৃত প্রয়োজনীয় ও  শোভাবর্ধক পণ্যসামগ্রী। সিরামিক শিল্প  প্রধানত, মৃৎপাত্র উন্নয়ন ও ব্যাপক অর্থে উচ্চ তাপমাত্রায় অধাতব পদার্থটি কঠিন বস্তুতে পরিণত করে যে কোনো পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত। শিল্পে ব্যবহূত ধাতব বা অর্গানিক শক্ত মালপত্র সিরামিকের অন্তর্ভুক্ত। সিরামিক পণ্যের মধ্যে আছে গ্লাস, পোড়ামাটির বাসনপত্র, চিনামাটির বাসন, চিনামাটির অ্যানামেলস, ডিনারসেট, টিসেট, কফিসেট, স্যুপসেট, ফলেরসেট, বাসন, পেয়ালা, ফুলদানি, মগ, টাইলস, বেসিন, কমোড, কিচেন ওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, টেবিলওয়্যার, মাটির জার, কলস, ফুলের টব, মটকা, টেবিল ওয়্যার, গার্ডেন পট, ভেজ, কিচেন ওয়্যার, ডিনার সেট, টি সেট, কফি মগ, বাটি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বিভিন্ন ধরনের পণ্য। অধিকাংশ সিরামিক পণ্যই ওভেনপ্রুফ ও ডিশওয়াশারপ্রুফ এবং এসবের রাসায়নিক ক্ষতিকর প্রভাব নেই। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত সিরামিকের তৈজসপত্র ছাড়াও ইটের টাইলস, টেরাকোটা, রিফ্রাক্টরিজ, সিমেন্ট, চুন, জিপসামসহ স্যানিটারির যে কোনো পণ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে বাংলাদেশের সিরামিক কোম্পানিগুলো।

বড় হচ্ছে দেশীয় বাজার

সিরামিক পণ্য হিসেবে  গৃহস্থালি তৈজসপত্র, নির্মাণে ব্যবহূত টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার (বেসিন, কমোড) এ তিন ধরনের সিরামিকের পাঁচ শতাধিক আইটেম উৎপাদন হয়। জানা যায়, দেশে আবাসনশিল্প বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিরামিকশিল্প প্রসার লাভ করে। একবিংশ শতকের শুরুর দিকে দেশে সিরামিক টাইলস ব্যবহারের ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।  এ সময় বহুগুণ বেড়ে যায় টাইলস বিক্রি অর্থাৎ ব্যবসাও বাড়ে। শুধু সিরামিক পণ্য বিক্রির জন্যই গড়ে ওঠে হাজার হাজার দোকান। আছে এসবের শোরুমও। এর খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা শুরু হয় জেলা, এমনকি থানা পর্যায়েও। মোট চাহিদার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে মেটাচ্ছে দেশি সিরামিক। বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ এখনও আমদানি করা হয়। আশার খবর হচ্ছে, রপ্তানির পাশাপাশি দেশের বাজারেও সিরামিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। যার অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি।  

বর্ধিষ্ণু রপ্তানি আয়

বিশ্ব বাজারে সিরামিক খাতে বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মজীবীর সংখ্যা ০.১ মিলিয়ন। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন সিরামিক পণ্য উৎপাদন খুব বেশি দিনের না হলেও ১৯৫৮ সালে সিরামিকের রপ্তানি বাজার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য ক্রমেই দখল করছে বিশ্ববাজার। ইউরোপসহ বিশ্বের শীর্ষ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ঝুঁকছে বাংলাদেশের বাজারে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৫ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে- যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি। জানাগেছে,

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। অথচ এই সময়ে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি রপ্তানির হয়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানির রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এদেশ থেকে ৫০টিরও অধিক দেশে সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়। যার মধ্যে আমেরিকা, চীন, জাপান, পোল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, তুরস্ক, রাশিয়া, স্পেন, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। এছাড়া আর্জেন্টিনা, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ব্রুনাই, কানাডা, কলম্ব্বিয়া, চিলি, চিন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক,  ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইরান, আয়ারল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, কোরিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, লেবানন, মেেকা, মিসর, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, পাকিস্তান, পেরু, ওমান, কাতার, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ানে সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

শিল্পের বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা

সম্ভাবনাময় সিরামিক শিল্প নানামুখী সীমাবদ্ধতার কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। গ্যাসের চড়া দাম আর সরবরাহের অপ্রতুলতা এই শিল্পের প্রসারকে ব্যাহত করছে। প্রকৌশলী থেকে শুরু করে শ্রমিকদের কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতি এ খাতের এক বড় অসুবিধা। আশার কথা, এখন বুয়েটে সিরামিকের ওপর কোর্স চালু হয়েছে। রপ্তানি করতে গিয়ে প্রচুর কর দিতে হচ্ছে। কাঁচামাল বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, ঋণ পাওয়ার জটিলতা, কাঁচামালের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ইত্যাদিও সিরামিক শিল্পের প্রসারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধক।

লেখক : সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads