• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭
অর্থনীতি সচল রেখেই শীতে করোনা মোকাবিলা

সংগৃহীত ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থনীতি সচল রেখেই শীতে করোনা মোকাবিলা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় সারা দেশে লকডাউনের কথা ভাবছে না সরকার। কারণ লকডাউনে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতেই এমন ভাবনা থেকে সরে এসেছে সরকার। সে কারণেই করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

শীতকালে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের আশঙ্কায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবরা অংশ নেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সভায় উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যদি আসে (দ্বিতীয় ওয়েভ) আমরা টোটাল প্রোগ্রামকে ভাগ করে নিলাম। ওয়ার্কপ্ল্যান রেডি করে নিতে হবে। ক্লিনিক্যাল সাইটটা আমাদের এক্সপার্টরা রেডি করবেন, যদি রোগটা বিস্তার করে কীভাবে তার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান হবে। সাপ্লিমেন্টারি ক্লিনিক্যাল সাইট, যেহেতু শীতের সময় অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি থাকবে, সেটাকেও ইমিডিয়েটলি সবাইকে সচেতন করে দেওয়া এবং তারও একটা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান রেডি করা।

তিনি বলেন, ব্যাপক প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন চালাতে হবে সবাই যাতে মাস্ক পরে। সবাই যাতে দূরত্বটা বজায় রাখে। স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সবাই যাতে মেনে চলে। এনফোর্সমেন্ট সাইট, মাঠ প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, সেনাবাহিনী- এটা কীভাবে করবে, সেই ওয়ার্ক প্ল্যান করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে ব্যাপক লোকজন বাইরে থেকে আসছে ও যাচ্ছে। তাদের কীভাবে প্রিকোশনারিভাবে (সতর্কতা) ট্রিটমেন্ট করব, যাতে বাইরে থেকে আর ভাইরাস না আসে। বিমানবন্দরে সেনাবাহিনীর বড় টিম আছে, তারা দেখাশোনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা বসে সভা করে ওয়ার্কপ্ল্যান করে ওপেন করে দেব।

অভিযান বাড়ানো হবে কি না- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, না, সিনারির ওপর ডিপেন্ড করবে। যদি কোনো রকম ইমপ্যাক্ট না হয়। আমাদের মূল কথা থাকবে আমরা ইকোনমিকে সচল রাখব ইনশাল্লাহ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা তাদের অধিক্ষেত্রের অফিসগুলো কীভাবে চালাবে তারা সেই ব্যবস্থা নেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় পিআইডির মাধ্যমে, স্থানীয় সরকার বিভাগ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদগুলোকে ব্যবহার করে মানুষকে আরো সচেতন করবে। স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন পর্যন্ত কর্মচারী আছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করবেন। গণমাধ্যমেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। ৭ থেকে ১০ দিন সময় দিয়েছি এ সময়ে তারা ওয়ার্কপ্ল্যান রেডি করবে।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা এখন যেটা করছি, কোলাবরেশন উইথ সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ফরেন মিনিস্ট্রির সাথে, এয়ারপোর্টে এবং বিভিন্ন এন্ট্রিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন থাকে। অনেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আসে তারা কোভিড ফ্রি। যারা নিয়ে আসেননি তারা কতদিন সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, সেই সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন।

যাদের এরকম কোনো সার্টিফিকেট নেই এবং যাদের সন্দেহ হয় তাদের আমরা ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাই। ঢাকার দিয়াবাড়ি ও হাজী ক্যাম্পে (কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা) আছে। করোনা যখন পিকে ছিল তখন সাড়ে তিন হাজারের মতো ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইনের ক্যাপাসিটি ছিল। সেখানে পনেরোশ’র উপরে উঠেনি। এজন্য আমরা এটাকে কমিয়ে দুই হাজারের মতো রেখেছি। এতে আমাদের সাশ্রয় হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যদি আবার রিভাইভ করে, সিচুয়েশন খারাপ হয়ে যায় তাহলে আমরা কোয়ারেন্টাইন সুবিধা আবার সাড়ে তিন হাজারে নিয়ে যাব। যারা কোভিড ফ্রি ও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন করে এসেছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইনে নেয়া লাগে না।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণের পর ছয় মাসের মাথায় ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭ জনে। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৭৮ জন। সংক্রমণের কারণে ২৬ মার্চ থেকে ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি (লকডাউন) শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরতে শুরু করে জনজীবন।

আবার লকডাউনের মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা ওটা (লকডাউন) এখনো চিন্তা করিনি। অনেক দেশেই বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরের শেষ থেকে দ্বিতীয় ওয়েভ আসে কি না সেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। দ্বিতীয় ওয়েভ ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে।

সরকারপ্রধানও করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গত সোমবার বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন আমাদের যেন প্রস্তুতি থাকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads